ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবিতে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ কর্মচারীর বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:২২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ‘কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট’ হিসেবে কর্মরত। এই জালিয়াতির ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শাহাদাত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি নিজের কাছে রাখা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে না গিয়ে জমা হতো অভিযুক্তের পকেটে।

অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল একটি বানানের অসংগতির কারণে সব প্রকাশ হয়ে পড়ে। অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও শাহাদাতের তৈরি নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের শেষে একটি বাড়তি ‘d’ অক্ষরের অসংগতি দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের তথ্যটি সামনে আসে।

অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাল রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাতকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য মো. হুমায়ুন কবির। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জানান, ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার শেষে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অগ্রণী ব্যাংকের নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, ‘এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করেছি। ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে করা, কেউ সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কিনা, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।’

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহবায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়াও সদস্য সচিব হিসেবে রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে গতকালই তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছি। তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্টস চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মচারী শাহাদাতকে কয়েকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোন ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নোবিপ্রবিতে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ কর্মচারীর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৪:২২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ‘কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট’ হিসেবে কর্মরত। এই জালিয়াতির ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শাহাদাত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি নিজের কাছে রাখা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে না গিয়ে জমা হতো অভিযুক্তের পকেটে।

অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল একটি বানানের অসংগতির কারণে সব প্রকাশ হয়ে পড়ে। অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও শাহাদাতের তৈরি নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের শেষে একটি বাড়তি ‘d’ অক্ষরের অসংগতি দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের তথ্যটি সামনে আসে।

অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাল রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাতকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য মো. হুমায়ুন কবির। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জানান, ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার শেষে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অগ্রণী ব্যাংকের নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, ‘এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করেছি। ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে করা, কেউ সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কিনা, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।’

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহবায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়াও সদস্য সচিব হিসেবে রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে গতকালই তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছি। তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্টস চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মচারী শাহাদাতকে কয়েকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোন ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’