খালখনন প্রকল্পে দুর্নীতি, শ্রমিক তালিকায় বিএনপি নেতার নম্বর
- আপডেট সময় ০৭:০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ৩৮ লাখ টাকার সরকারি খালখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে ভ্যাকু মেশিন ব্যবহার, শ্রমিকদের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক তালিকায় কয়েকজনের মোবাইল নম্বরের স্থানে বিএনপি নেতা, ব্যবসায়ী ও স্কুল শিক্ষকের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের ঝড়িরপাড় থেকে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ঢুসেরডেরা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল খননের জন্য সরকার ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের তালিকায় দুই ইউনিয়নের ৪৫ জন করে মোট ৯০ জন শ্রমিকের নাম রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে খননকাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সরেজমিনে দেখা যায়, ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন অংশে ৪৫ জনের তালিকার বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ১৭ জন শ্রমিক। দুই ইউনিয়ন মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন ৩৫ থেকে ৪০ জন। অথচ অনুপস্থিত শ্রমিকদের নামেও সরকারি বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, শ্রমিক শ্রী অনন্ত কুমার রায়ের মোবাইল নম্বরের স্থানে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপনের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে শ্রমিক ইসহাক আলীর নম্বরের স্থানে স্থানীয় ব্যবসায়ী সোবহান আলীর নম্বর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকের নম্বর তালিকায় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে তাদের দিয়ে একাধিক ফাঁকা চেকে আগাম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অনেককে কয়েকদিন কাজ করিয়ে সামান্য টাকা দেওয়া হলেও বাকি অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।
শ্রমিক রঞ্জিত কুমার, বেলাল হোসেন ও মোহর আলীসহ কয়েকজন জানান, ১৭ দিন কাজ শেষে তাদের ব্যাংকে নিয়ে তিনটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও বাকি পাওনা পরবর্তীতে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। অনেক শ্রমিক ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করলেও কোনো অর্থ পাননি বলেও অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় আমার মোবাইল নম্বর কে ব্যবহার করেছে, তা আমার জানা নেই।’
প্রকল্পের সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সাইদা বেগম বলেন, ‘আমি নামমাত্র প্রকল্প সম্পাদক। প্রকল্পের সব কাজ গোলাম কিবরিয়া রিপন দেখভাল করেছেন। প্রয়োজন হলে তিনি এসে আমার কাছ থেকে একসঙ্গে অনেক স্বাক্ষর নিয়ে যেতেন।’
প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মোফা বলেন, ‘আমি সভাপতি হলেও প্রকল্পের কাজ দেখাশোনার সুযোগ পাইনি। জোর করে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তালিকায় ৪৫ জন শ্রমিক থাকলেও কাজ করেছেন মাত্র ১৮ থেকে ২০ জন।’
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ‘নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। কাজ পরিদর্শন করেই বিল দেওয়া হয়েছে। কোনো শ্রমিক প্রাপ্য অর্থ না পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



















