ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেননি, ম্যাচসেরা হয়ে কাঁদলেন কেপ ভার্দের নায়ক

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। ‘বুড়ো’ বয়সেও আবেগে ভাসলেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। এরপর শুরু হলো ফুঁপিয়ে কান্না।

সেই কান্না আড়াল করতে কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। সবার চোখই তখন ভেজা।

ভেজিনিয়ার সেই কান্নায় লুকায়িত ছিল অসাধ্য সাধনের তৃপ্তি। কেপ ভার্দের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উৎসবের এই মুহূর্ত তো নেমেছে তার হাতে ভর করেই। দারুণ সাতটি সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নেমে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

এদিকে ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়া জানিয়েছেন তার কান্নায় তৃপ্তির পাশাপাশি মিশে ছিল আক্ষেপও। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে না পারেননি তিনি।

ভোজিনিয়া বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারাই ছিলেন আমার সবকিছু।’

‘কিন্তু আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি।ভিসার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে টাকা দিতে হয়, সেটা আমরা সময়মতো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।’

ভোজিনিয়ার এই সাফল্যে পৌঁছানোর পথটাও ছিল ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র পৌন ছয় লাখ মানুষের বাস কেপ ভার্দে থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা তো সহজ কিছু নয়!

উল্লেখ্য, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরোর চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় নবাগত কেপ ভার্দে। যেখানে ভোজিনিয়ার নৈপুণ্যে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেননি, ম্যাচসেরা হয়ে কাঁদলেন কেপ ভার্দের নায়ক

আপডেট সময় ০২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। ‘বুড়ো’ বয়সেও আবেগে ভাসলেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। এরপর শুরু হলো ফুঁপিয়ে কান্না।

সেই কান্না আড়াল করতে কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। সবার চোখই তখন ভেজা।

ভেজিনিয়ার সেই কান্নায় লুকায়িত ছিল অসাধ্য সাধনের তৃপ্তি। কেপ ভার্দের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উৎসবের এই মুহূর্ত তো নেমেছে তার হাতে ভর করেই। দারুণ সাতটি সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নেমে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

এদিকে ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়া জানিয়েছেন তার কান্নায় তৃপ্তির পাশাপাশি মিশে ছিল আক্ষেপও। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে না পারেননি তিনি।

ভোজিনিয়া বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারাই ছিলেন আমার সবকিছু।’

‘কিন্তু আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি।ভিসার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে টাকা দিতে হয়, সেটা আমরা সময়মতো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।’

ভোজিনিয়ার এই সাফল্যে পৌঁছানোর পথটাও ছিল ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র পৌন ছয় লাখ মানুষের বাস কেপ ভার্দে থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা তো সহজ কিছু নয়!

উল্লেখ্য, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরোর চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় নবাগত কেপ ভার্দে। যেখানে ভোজিনিয়ার নৈপুণ্যে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।