ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দ্বিগুণ বাজেটে বাস্তবায়ন হচ্ছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ

৫৫৮০ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ১২৪৪২ কোটিতে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:২১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ নির্মানের কাজ ২০১৮ সালে পাশ হলেও তা বাস্তবায়ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পরে অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। তবে এ বছর এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়নে রাজি হওয়ায় বাজেট সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রথম বাজেটের থেকে দ্বিগুণ হয়েছে এ বাজেটের পরিমাণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ভারতীয় ঋণের অর্থে এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

ভারত সরে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। সংশোধন প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনুমোদনের পর তা একনেকে ওঠার কথা।

প্রকল্পে যা থাকছে
প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন ও ৩৭ কিলোমিটার শাখা রেললাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার ও ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট–বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এ প্রকল্পে রয়েছে। ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস ও ঢাকা–নাটোর মহাসড়কের ওপর আরেকটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

এ পথে মোট ১১টি রেলস্টেশন থাকবে। সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাটে নতুন আটটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর রেলস্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রানীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি মুখ বগুড়ার দিকে, অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সময়মতো প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে না পারা। এর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে নতুন কিছু সেতু ও উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে। জমির মূল্যও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দ্বিগুণ বাজেটে বাস্তবায়ন হচ্ছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ

৫৫৮০ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ১২৪৪২ কোটিতে

আপডেট সময় ০৪:২১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ নির্মানের কাজ ২০১৮ সালে পাশ হলেও তা বাস্তবায়ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পরে অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। তবে এ বছর এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়নে রাজি হওয়ায় বাজেট সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রথম বাজেটের থেকে দ্বিগুণ হয়েছে এ বাজেটের পরিমাণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ভারতীয় ঋণের অর্থে এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

ভারত সরে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। সংশোধন প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনুমোদনের পর তা একনেকে ওঠার কথা।

প্রকল্পে যা থাকছে
প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন ও ৩৭ কিলোমিটার শাখা রেললাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার ও ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট–বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এ প্রকল্পে রয়েছে। ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস ও ঢাকা–নাটোর মহাসড়কের ওপর আরেকটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

এ পথে মোট ১১টি রেলস্টেশন থাকবে। সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাটে নতুন আটটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর রেলস্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রানীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি মুখ বগুড়ার দিকে, অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সময়মতো প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে না পারা। এর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে নতুন কিছু সেতু ও উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে। জমির মূল্যও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।