ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের যৌথ চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:২৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাসে লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে ফলের দোকান, চায়ের দোকান, কনফেকশনারি, ফ্লেক্সিলোড, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে এসব চাঁদা নেওয়া হয়। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং অন্যান্য দোকান থেকে মাসে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা, দক্ষিণ থানা ছাত্রদলের সদস্য নীরব, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল, ছাত্রদলকর্মী সুমন মোল্লা, খাইরুল ইসলাম, সিয়ামসহ ১০-১২ জন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি একটি হোটেল বন্ধ করে দিয়ে এটির মালিককে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা দাবি করছেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার অনুসারী এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘অতিথি ভোজন অ্যান্ড বিরিয়ানি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে ওই ব্যবসায়ী মাসিক ১০ হাজার টাকা করে আবির মোল্লা পায়েলকে দিচ্ছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা পাভেল মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার কর্মী ডিকে বাপ্পিকে ওই হোটেলে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর ওই ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করেন, রাজেন্দ্রপুরের একটি বেকারি দোকান থেকে ছাত্রদলকর্মী সিয়াম প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। পুরির হোটেল থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন জসিম নামে আরেক নেতা। ভাঙ্গারি দোকান থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পাভেল মোল্লার বড় ভাই সুমন মোল্লার বিরুদ্ধে। বাখরখানি দোকান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিরিয়ানির দোকানসহ রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকান থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি ইজারার আওতার বাইরে থাকা দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে চাঁদা দিতে না পারলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে রয়েছেন। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে পারছেন না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, বিভিন্ন দোকান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানেন। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সরাসরি কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। নির্দিষ্ট দোকানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল বলেন, তিনি নিজে বাজারটি দেখাশোনা করেন এবং তার নির্দেশনায় দোকানগুলো পরিচালিত হয়। তবে কাউকে চাঁদা দিতে হয় না বলে দাবি করেন তিনি। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কেরানীগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের যৌথ চাঁদাবাজি

আপডেট সময় ১২:২৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাসে লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে ফলের দোকান, চায়ের দোকান, কনফেকশনারি, ফ্লেক্সিলোড, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে এসব চাঁদা নেওয়া হয়। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং অন্যান্য দোকান থেকে মাসে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা, দক্ষিণ থানা ছাত্রদলের সদস্য নীরব, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল, ছাত্রদলকর্মী সুমন মোল্লা, খাইরুল ইসলাম, সিয়ামসহ ১০-১২ জন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি একটি হোটেল বন্ধ করে দিয়ে এটির মালিককে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা দাবি করছেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার অনুসারী এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘অতিথি ভোজন অ্যান্ড বিরিয়ানি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে ওই ব্যবসায়ী মাসিক ১০ হাজার টাকা করে আবির মোল্লা পায়েলকে দিচ্ছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা পাভেল মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার কর্মী ডিকে বাপ্পিকে ওই হোটেলে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর ওই ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করেন, রাজেন্দ্রপুরের একটি বেকারি দোকান থেকে ছাত্রদলকর্মী সিয়াম প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। পুরির হোটেল থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন জসিম নামে আরেক নেতা। ভাঙ্গারি দোকান থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পাভেল মোল্লার বড় ভাই সুমন মোল্লার বিরুদ্ধে। বাখরখানি দোকান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিরিয়ানির দোকানসহ রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকান থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি ইজারার আওতার বাইরে থাকা দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে চাঁদা দিতে না পারলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে রয়েছেন। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে পারছেন না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, বিভিন্ন দোকান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানেন। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সরাসরি কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। নির্দিষ্ট দোকানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল বলেন, তিনি নিজে বাজারটি দেখাশোনা করেন এবং তার নির্দেশনায় দোকানগুলো পরিচালিত হয়। তবে কাউকে চাঁদা দিতে হয় না বলে দাবি করেন তিনি। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।