‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ দাবি করা সেই নাজিমের ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার নানা প্রমাণ
- আপডেট সময় ০৫:১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে পরীক্ষা দিতে এসে আটক হওয়া নাজিম উদ দৌলাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নাজিম অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাকে কেবল ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইনকোর্স পরীক্ষা শেষে নাজিমকে ছাত্রলীগ হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। পরদিন শুক্রবার (২৬ জুন) তাকে আদালতে তোলা হয়।
আটকের সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, নাজিম কেবল সাধারণ শিক্ষার্থী নন, তিনি অতীতে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আটক হওয়ার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপে ‘Fund & Support’ নামের একটি গ্রুপে নাজিমের উপস্থিতি দেখা যায়। ওই গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। এছাড়া কুড়িগ্রাম ও রাজীবপুর এলাকার আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একাধিক অনলাইন গ্রুপেও তাকে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
নাজিমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্ট, ছবি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমর্থনসূচক কনটেন্ট পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তার গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে তার পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার এমন বিভিন্ন তথ্য সামনে থাকার পরও কয়েকটি গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য নাজিমকে শুধুমাত্র ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে কেন?
অন্যদিকে, নাজিমকে আদালতে তোলা হলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সন্দেহ করে ছাত্রদল আমাকে আটক করে। প্রচণ্ড মারধর করে। অণ্ডকোষে আঘাত করে। এরপর পুলিশের কাছে তুলে দেয়।
জামিন আবেদনের শুনানিতে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় একদল যুবক নাজিমকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
উল্লেখ্য, নাজিম উদ দৌলাকে বনানী থানার সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।




















