ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে ব্যঙ্গ: বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে ব্যঙ্গ: বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।