ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায়

৭৭ লাখ টাকার খাল খনন প্রকল্প: কাগজে শ্রমিক মাঠে ভেকু

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ দক্ষিণ টেটেশ্বর থেকে কহুয়া নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভেদা খাল পুনঃখননে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা দূর করা, সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকের দুর্ভোগ কমানো। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের বিধান থাকলেও পুরো কাজই করা হয়েছে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটির জন্য ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৩ জুন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গঠিত সাত সদস্যের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটিকে (পিআইসি)। কমিটির সভাপতি সদ্য বিদায়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তারিন বাশার লিমা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে না থাকলেও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি প্রকল্পটি তদারকি করেছেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্পে ৫০ শতাংশ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে করার কথা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো কাজই এস্কেভেটর দিয়ে করা হয়েছে। নির্ধারিত ৪০ দিনের কাজ মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের শেষ প্রান্তে ফুলগাজী উপজেলা সীমানায় একটি স্লুইস গেট এবং কহুয়া নদীর বাঁধ থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল পুনঃখনন করা হলেও পানি নদীতে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় খালটি প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এতে জলাবদ্ধতা নিরসন কিংবা সেচ সুবিধা কোনোটিই নিশ্চিত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, কোটি টাকার কাছাকাছি সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের সুফল তারা পাচ্ছেন না। বরং পরিকল্পনার অভাবে পুরো উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পরশুরাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আহমেদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ কাজ যন্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। আমাদের নথিতে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে ১৭৮ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা।

তবে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই শ্রমিকদের উপস্থিতির তথ্য মেলেনি।

স্থানীয়দের দাবি, মাঠে কোনো শ্রমিক কাজ করেননি। পুরো কাজই ভেকু দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, পুরো প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি খালটি কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায়

৭৭ লাখ টাকার খাল খনন প্রকল্প: কাগজে শ্রমিক মাঠে ভেকু

আপডেট সময় ০৪:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ দক্ষিণ টেটেশ্বর থেকে কহুয়া নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভেদা খাল পুনঃখননে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা দূর করা, সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকের দুর্ভোগ কমানো। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের বিধান থাকলেও পুরো কাজই করা হয়েছে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটির জন্য ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৩ জুন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গঠিত সাত সদস্যের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটিকে (পিআইসি)। কমিটির সভাপতি সদ্য বিদায়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তারিন বাশার লিমা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে না থাকলেও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি প্রকল্পটি তদারকি করেছেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্পে ৫০ শতাংশ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে করার কথা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো কাজই এস্কেভেটর দিয়ে করা হয়েছে। নির্ধারিত ৪০ দিনের কাজ মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের শেষ প্রান্তে ফুলগাজী উপজেলা সীমানায় একটি স্লুইস গেট এবং কহুয়া নদীর বাঁধ থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল পুনঃখনন করা হলেও পানি নদীতে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় খালটি প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এতে জলাবদ্ধতা নিরসন কিংবা সেচ সুবিধা কোনোটিই নিশ্চিত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, কোটি টাকার কাছাকাছি সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের সুফল তারা পাচ্ছেন না। বরং পরিকল্পনার অভাবে পুরো উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পরশুরাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আহমেদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ কাজ যন্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। আমাদের নথিতে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে ১৭৮ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা।

তবে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই শ্রমিকদের উপস্থিতির তথ্য মেলেনি।

স্থানীয়দের দাবি, মাঠে কোনো শ্রমিক কাজ করেননি। পুরো কাজই ভেকু দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, পুরো প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি খালটি কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।