কম্বল-শাড়ির পর এবার সেই বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে সরকারি সার-বীজ উদ্ধার
- আপডেট সময় ০৬:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়ি থেকে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে স্থানীয়রা আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি কৃষি উপকরণ দেখতে পান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানের বীজ নির্ধারিত বিতরণ স্থলে না এনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে কৃষি বিভাগকে অবহিত করেন।
মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের সার ও বীজ কীভাবে এলো, তা আমার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই কৃষকদের মাঝে এসব বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এসে সার ও বীজ বিতরণ করেন। এর আগেও সরকারি কম্বল ও শাড়ি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
থানা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আব্দুল্লাহ এর আগেও সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন উপকরণ বাড়িতে এনে রাখতেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতেন। এবার খবর পেয়ে আমরা গিয়ে সার ও ধানবীজ উদ্ধার করি। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এসে কৃষকদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন জানান, সোমবার তাকে উপজেলা থেকে সার আনার জন্য ভাড়া করা হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ডের মাধ্যমে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ মণ্ডল বলেন, সোমবার উপজেলা থেকে ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ব্লক সুপারভাইজার উপস্থিত হওয়ার পর তার তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছি। আশা করি আজকের মধ্যেই সব বিতরণ সম্পন্ন হবে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার সাকিব হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের সার, ধানবীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে না রেখে নির্ধারিত সরকারি স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।



















