ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেলেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি
নিজস্ব সংবাদ :
- আপডেট সময় ০৬:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং কখনো পদত্যাগ করেননি। তবে নিজে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় বৈরি পরিবেশে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ছাত্রলীগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানান তোফায়েল।
গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হাসান (মামুন সরকার) দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটি প্রকাশের পরই তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের প্রথম সারির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আইন অনুষদ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে ৭ নম্বর সহ-সভাপতি পদে আছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলে যোগ দেন এবং নবঘোষিত ছাত্রদলের কমিটিতেও ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দখলে নেন।
আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন উদ্দিন তার বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
তবে মামলা দিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, মহিন আমার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য বা ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস এবং হলের পরিস্থিতির কারণে কৌশলে বা পারিপার্শ্বিক সুবাদে তৎকালীন ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে আমার উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ছাত্রত্ব চলে গেলে আমাদের জীবন অন্ধকার হয়ে যেত। তাই ক্যাম্পাসে টিকে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তখন তাদের সঙ্গে এক ধরনের লিয়াজোঁ বা সমঝোতা করে চলতে হতো এবং জোর-জবরদস্তি করে মাঝে মাঝে তারা আমাদের প্রোগ্রামে ডেকে নিত, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানেন। তবে আমি যে ২০২২ সাল, ২০২৪ সাল বা এর আগেও ওপেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং ভিডিও বার্তা দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, তার সমস্ত ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।
এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমরা খতিয়ে দেখেছি ওরা জুলাই আন্দোলন করেছে এবং তোফায়েল আহমেদকে বিগত সময়ের ছাত্রদলের প্রোগ্রামেও আমরা দেখেছি। জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। যারা আমাদের নিয়ে কাজ করেছে তারা এই বিষয়টা খতিয়ে দেখেছে এবং পরবর্তীতে সে ছাত্রদলের প্রোগ্রামগুলোও করেছে। এরপর ও যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে আমরা খতিয়ে দেখবো, দেখার পরে যদি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ট্যাগস :



















