ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিমান বন্দরে

৫০০ টাকার চারাগাছ কেনা হয়েছে লাখ টাকায়

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাধারণ চারা গাছের প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। অথচ বিমানবন্দর-সংলগ্ন নার্সারিগুলোতে একই ধরনের চারা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এসব গাছ লাগানোর জন্য মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। আর পরিচর্যার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

শোভাবর্ধনের নামে এমন পুকুরচুরি হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে।

শুধু তাই নয়, থার্ড টার্মিনালে পুকুর নির্মাণ বাবদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে গুগল আর্থের চিত্রে দেখা যায়, সেখানে আগে থেকেই জলাশয় ছিল। জলাশয়কেই শুধু পুকুরে রূপান্তর করা হয়েছে।

প্রকল্প এলাকার মাটি অপসারণের কাজেও ঘটেছে লঙ্কাকাণ্ড। চুক্তি অনুযায়ী, মাটি সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দুই কিলোমিটারের মধ্যেই ফেলা হয়েছে। তবে বিল করা হয়েছে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে মাটি পরিবহনের হিসাব ধরে। এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। এতে সরকারের প্রায় ৫২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, স্টার নিউজের কাছে আসা নথি বলছে, থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের ফিতা কাটার জন্যই ৪৪ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। যদিও এ ধরনের ব্যয় চুক্তিতে ছিল না। এছাড়া ডিজেল পাম্প সরবরাহে প্রায় ১২ কোটি টাকা, ইউপিএস বাবদ সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা এবং জ্বালানি তেল কিনতে আরও ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। এমনকি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার যুক্তিতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন)।

সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্টার নিউজ। এর মধ্যে অন্তত ৬০০ খাতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করা হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই। অতিরিক্ত কাজের জন্য ১ শতাংশ খরচ করার ক্ষমতা থাকলেও, বিধি লঙ্ঘন করে সেখানে ২৩ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে। আর এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ অডিট রিপোর্টে।

প্রকল্পের বড় তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক শামসুল হক। পরিবহন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেলেও তিনি মতামত দিতেন প্রকিউরমেন্ট নিয়ে। তবে এসব বিষয় এড়িয়ে যান তিনি। ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘এই বিষয়ে কথা বলব না। আমি তো একা নই; এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন রয়েছে।’ বিধিবহির্ভূত ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, উল্টো ক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

তবে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ‘এটা আমিও জানতাম। আমি বারবার বলেছি, এখানে ৬০০টি ভেরিয়েশনই ইলিগ্যাল (অবৈধ) ভেরিয়েশন। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এসব বিষয়ে মতামত দেয়ার মতো তখন কোনো বিশেষজ্ঞ ছিল না। তাই বুয়েট আমাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।’

এসব অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন) ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করে। তবে যাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, তাদেরই কয়েকজনকে এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে। যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। আর প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা বিপুল অঙ্কের অর্থ পরবর্তীতে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ লক্ষ্যে বিষয়টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চিহ্নিত অনিয়মগুলো যদি পোস্ট-ফ্যাক্টো (ঘটনাত্তোর অনুমোদন) অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়, তাহলে সেটি হবে আরেকটি দুর্নীতির শামিল। যারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদন দেয়া হলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আর সম্ভব হবে না। কাজেই এখন এসব অনিয়মকে বৈধতা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াবে—অনিয়ম করেছি, এখন সেটিকে সেটেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সেটেল করে নিই। কোনো অবস্থাতেই এটিকে গ্রহণযোগ্য বলে আমি মনে করি না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়ম ভেঙে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিকে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ; সেটি বৈধ দেখাতে কমিটি গঠন; আর খরচ করা টাকা একনেকে অনুমোদনের চেষ্টা—এসব জানতে সিভিল এভিয়েশনে যোগাযোগ করে স্টার নিউজ। তবে মুখ খোলেননি তারা।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি অ্যামিকেবল হয় না। আমি দেখব, কার কার কারণে এসব ভেরিয়েশন হয়েছে, ফলস (ভুয়া) ভেরিয়েশনের মাধ্যমে কত টাকার অনিয়ম হয়েছে এবং কারা এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। বিষয়গুলো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ধাপে ধাপে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার কোটিতে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিমান বন্দরে

৫০০ টাকার চারাগাছ কেনা হয়েছে লাখ টাকায়

আপডেট সময় ০১:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাধারণ চারা গাছের প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। অথচ বিমানবন্দর-সংলগ্ন নার্সারিগুলোতে একই ধরনের চারা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এসব গাছ লাগানোর জন্য মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। আর পরিচর্যার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

শোভাবর্ধনের নামে এমন পুকুরচুরি হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে।

শুধু তাই নয়, থার্ড টার্মিনালে পুকুর নির্মাণ বাবদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে গুগল আর্থের চিত্রে দেখা যায়, সেখানে আগে থেকেই জলাশয় ছিল। জলাশয়কেই শুধু পুকুরে রূপান্তর করা হয়েছে।

প্রকল্প এলাকার মাটি অপসারণের কাজেও ঘটেছে লঙ্কাকাণ্ড। চুক্তি অনুযায়ী, মাটি সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দুই কিলোমিটারের মধ্যেই ফেলা হয়েছে। তবে বিল করা হয়েছে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে মাটি পরিবহনের হিসাব ধরে। এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। এতে সরকারের প্রায় ৫২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, স্টার নিউজের কাছে আসা নথি বলছে, থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের ফিতা কাটার জন্যই ৪৪ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। যদিও এ ধরনের ব্যয় চুক্তিতে ছিল না। এছাড়া ডিজেল পাম্প সরবরাহে প্রায় ১২ কোটি টাকা, ইউপিএস বাবদ সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা এবং জ্বালানি তেল কিনতে আরও ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। এমনকি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার যুক্তিতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন)।

সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্টার নিউজ। এর মধ্যে অন্তত ৬০০ খাতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করা হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই। অতিরিক্ত কাজের জন্য ১ শতাংশ খরচ করার ক্ষমতা থাকলেও, বিধি লঙ্ঘন করে সেখানে ২৩ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে। আর এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ অডিট রিপোর্টে।

প্রকল্পের বড় তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক শামসুল হক। পরিবহন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেলেও তিনি মতামত দিতেন প্রকিউরমেন্ট নিয়ে। তবে এসব বিষয় এড়িয়ে যান তিনি। ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘এই বিষয়ে কথা বলব না। আমি তো একা নই; এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন রয়েছে।’ বিধিবহির্ভূত ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, উল্টো ক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

তবে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ‘এটা আমিও জানতাম। আমি বারবার বলেছি, এখানে ৬০০টি ভেরিয়েশনই ইলিগ্যাল (অবৈধ) ভেরিয়েশন। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এসব বিষয়ে মতামত দেয়ার মতো তখন কোনো বিশেষজ্ঞ ছিল না। তাই বুয়েট আমাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।’

এসব অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন) ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করে। তবে যাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, তাদেরই কয়েকজনকে এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে। যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। আর প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা বিপুল অঙ্কের অর্থ পরবর্তীতে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ লক্ষ্যে বিষয়টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চিহ্নিত অনিয়মগুলো যদি পোস্ট-ফ্যাক্টো (ঘটনাত্তোর অনুমোদন) অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়, তাহলে সেটি হবে আরেকটি দুর্নীতির শামিল। যারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদন দেয়া হলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আর সম্ভব হবে না। কাজেই এখন এসব অনিয়মকে বৈধতা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াবে—অনিয়ম করেছি, এখন সেটিকে সেটেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সেটেল করে নিই। কোনো অবস্থাতেই এটিকে গ্রহণযোগ্য বলে আমি মনে করি না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়ম ভেঙে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিকে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ; সেটি বৈধ দেখাতে কমিটি গঠন; আর খরচ করা টাকা একনেকে অনুমোদনের চেষ্টা—এসব জানতে সিভিল এভিয়েশনে যোগাযোগ করে স্টার নিউজ। তবে মুখ খোলেননি তারা।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি অ্যামিকেবল হয় না। আমি দেখব, কার কার কারণে এসব ভেরিয়েশন হয়েছে, ফলস (ভুয়া) ভেরিয়েশনের মাধ্যমে কত টাকার অনিয়ম হয়েছে এবং কারা এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। বিষয়গুলো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ধাপে ধাপে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার কোটিতে।