পেয়ারার দাম কম না রাখায় দোকানিকে মারধর, প্রতিবাদ করায় সিনিয়রকে ‘ঠ্যাং ভাঙার হুমকি’ ছাত্রদল নেতাদের
- আপডেট সময় ০৩:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
পেয়ারার দাম কম না রাখায় দোকানিকে বেধড়ক মারধর করেছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য কমিটির সদস্য ইয়াস্তি আল মামুন ও আলফাজ উদ্দিন মালিতা। এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় রিয়াদ প্রধান নামে ক্যাম্পাসের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ঠ্যাং (পা) ভাঙার হুমকি দেন তারা। তাছাড়াও একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কলেজের বকুল চত্বরের পাশে কর্মচারী হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) আসরের সময়ে কর্মচারী কল্যাণ হোটেলে পেয়ারা মাখা খেতে আসেন ঢাকা কলজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ইয়াস্তি আল মামুন। তিনি পেয়ারার দাম কত, জিজ্ঞেস করলে দোকানদার ৩০ টাকা বলেন। এরপর মামুন ২০ টাকা দেবেন বললে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। পরে দোকানদারকে নিয়ে তিনি পেয়ারা মাপার জন্য নিয়ে যান ও আধ ঘন্টা সময় আটক রাখেন। এসময় সেই দোকানদারকে রাতে এসে মারার হুমকি দেন ছাত্রদল নেতা মামুন।
পরে রাত ৯ টার দিকে মামুন ও ছাত্রদলের আরেক আহ্বায়ক সদস্য আলফাজ উদ্দিন মালিতার নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ সেই দোকানদারকে বেধড়ক পিটুনি দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা কলেজের সাউথ হলের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রিয়াদ প্রধান তাদেরকে বাধা দেন। পরবর্তীতে তাকে রাত ১০টার দিকে সাউথ হলের পানির পাম্পের সামনে তাকে হেনস্তা করেন অভিযুক্ত ছাত্রদলের নেতারা।
এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডে কলেজ ছাত্রদল নেতা মামুন ও আলফাজ উদ্দিনকে তাদের সিনিয়র রিয়াদকে হুমকি দিতে শোনা যায়। অডিওতে মামুন রিয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘‘আপনি আমাদের চেনেন না, আমরা কারা? আমরা ছাত্রদলের সদস্য, আপনি জানেন না? আপনি আমাদের পক্ষ না নিয়ে কেন কর্মচারীদের পক্ষে কথা বলবেন?”
এসময় ছাত্রদল নেতা আলফাজ উদ্দিন ভুক্তভোগী রিয়াদকে বলেন,‘‘আপনার মতো সিনিয়ররা আমাদের সাথে কথা বলতে ভয় পায়। আপনি তো আমাকে চেনেন না। আবার রাগ দেখাচ্ছেন, আপনার ঠ্যাং যে এখনো ভালো আছে কপাল ভালো।’’
হেনস্তার শিকার হওয়া শিক্ষার্থী রিয়াদ প্রধান দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন,‘‘দোকানদার পেয়ারার দাম ৩০ টাকা চাওয়ায় ঐ দোকানদারকে তারা আটকে রাখে আধা ঘণ্টা। এরপর রাতে তারা সেই দোকানদারকে ধরে মারতে থাকে। এরপর সাউথ হলের সামনে এসে তারা আমাকে বলে যে, ভাই আপনি কি বুঝেন না? আমাদের চিনেন না? সবার সামনে আপনি ডাক দিলেন কেন? জুনিয়র হয়ে তারা আমাকে বলে তোর ঠ্যাং যে এখনো ভালো আছে কপাল ভালো।’’
অন্যদিকে, দোকানদারকে মারধরে বাধা দেওয়ায় ঢাকা কলেজের ২০২২-২৩ সেশনের আরও এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মামুন ও আলফাজ। ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যে করে মামুনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘তোদের জন্য ছাত্রলীগই ভালো ছিল।’’ পাশ থেকে আলফাজ ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘সামনের দিনে দেখা হলে সালাম দিয়ে কথা বলবি।’’
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী দোকানদার জাবেদ বলেন, “বিকেলে দোকানের সামনে খুচরা পেয়ারা বিক্রি করছিলাম। এ সময় আলফাজ ও মামুন এসে পেয়ারার দাম জানতে চাইলে, প্রতি পিস ৩০ টাকা দাম বলি। তখন তারা প্রশ্ন তোলে, প্রতি পিস ৩০ টাকা কেন? বাইরে তো পেয়ারা ৫০-৬০ টাকা কেজি। তিনটি বড় পেয়ারার ওজন প্রায় এক কেজি।” বিষয়টি যাচাই করতে তারা তাকে নিয়ে নাঈমের গলির মোড়ের দোকানে যায় এবং সেখানে পেয়ারা ওজন করলে তিনটির ওজন ৯৫০ গ্রাম হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘‘খুচরা বিক্রি করছি, তাই ৩০ টাকা না হলে ২৫ টাকা দিলেও হবে। কিন্তু এরপরও আলফাজ ও মামুন হেনস্তা করে। হলে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।’’
তিনি আরও জানান, রাত প্রায় ৯টার দিকে দক্ষিণ হলের রিয়াদ তাদের ডেকে বলেন, ‘তোমরা শিক্ষিত হয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে এভাবে খারাপ ব্যবহার করছো কেন? তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।’ রিয়াদ ভাইয়ের এ কথা বলার পর তারা আমাকে বিভিন্ন গালাগালি দেয়। এরপরে আলফাজ, মামুনসহ আরও ৪-৫ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ইয়াস্তি আল মামুন দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, “ক্যাম্পাসের বাইরে কেজিতে ৬০ টাকা করে পেয়ারা পাওয়া যায়, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে ৯০ টাকা করে বিক্রি করছিল ওই দোকানদার। যেটির প্রতিবাদ করায় দোকানদারের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু রিয়াদ ভাইকে হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে দোকানদারের সঙ্গে ঝামেলার পর তিনি দোকানের এতজন কর্মচারীর সামনে আমাদেরকে জেরা না করে একটু সাইডে ডেকে নিয়ে বললেও পারতেন।
বক্তব্য জানতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রিয়াদের ঠ্যাং ভাঙার হুমকি দেওয়া অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলফাজ উদ্দিন মালিতাকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মিল্লাদ হোসেনদ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন,“এমন ঘটনার বিষয়টি আমরা জানি না। আসলে অন্যায় বা এরকম কর্মকাণ্ডরে আমরা প্রশ্রয় দেই না। আমাদের কাছে আসলে বা আমাদের সংগঠন করে এমন কাজ কেউ করলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাথে সাথেই পদক্ষেপ নেই। কেউ কোন অপকর্ম বা অন্যায় আচরণ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা বা আমরা তাৎক্ষণিক সেটার সমাধান করার চেষ্টা করি। আসল ঘটনা যাচাই করে বিষয়টা আমরা আমলে নিয়ে, গুরুত্ব সহকারে দেখতেছি।”



















