ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করতে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৬৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। কোম্পানিটির বেবি পাউডার এবং ট্যাল্ক উপাদানযুক্ত অন্যান্য পণ্যের কারণে ডিম্বাশয় ক্যানসার হয় বলে অভিযোগ ওঠায় এসব মামলা করা হয়েছিল।

নিউজার্সিভিত্তিক এই স্বাস্থ্যসেবা জায়ান্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা এ আইনি লড়াই শেষ করতেই এই ঐতিহাসিক নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের ট্যাল্কযুক্ত পণ্যে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা তাদের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বেবি পাউডারের ফর্মুলাও পরিবর্তন করেছে।

কোম্পানির মামলাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস সোমবার বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য জনসন অ্যান্ড জনসন সমঝোতায় রাজি হয়েছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী বছর তারা ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করবে। এরপর ২০২৮ সালের আগে আর কোনো অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে না তাদের।

জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, রাজ্য এবং ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয় ক্যান্সার সংক্রান্ত মামলার ৯৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রস্তাব মেনে নিতে হবে, তবেই এটি চূড়ান্ত হবে।

এক বিবৃতিতে হাস বলেন, তারা নিশ্চিত ছিলেন যে আরও আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতেন, যেমনটা এখন পর্যন্ত আদালতে বেশিরভাগ মামলায় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে কোম্পানি এই বিষয়টাকে পেছনে ফেলে জীবন বাঁচানোর ওষুধ এবং যন্ত্রপাতি তৈরির নিজেদের লক্ষ্যে মনোযোগ দিতে পারবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের সাবেক কনজিউমার হেলথ ব্যবসা কেনভিউ উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনের বেবি পাউডারের দায়ভার বহন করে। ব্যান্ড-এইড, লিস্টারিন এবং ক্যালপলের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের মালিক কেনভিউকে ২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন থেকে আলাদা করা হয়েছিল।

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডারের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের প্রথম দিকে।

চলতি জুলাই মাসের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত পৃথক বাদীরা তাদের ডিম্বাশয় ক্যানসরের সরাসরি কারণ হিসেবে ট্যাল্ককে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোম্পানিকে একটা জয় এনে দেয়।

ট্যাল্ক হলো ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরি একটা প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। এর সাবানের মতো নরম অনুভূতির জন্য এটি পরিচিত এবং সাধারণত বেবি পাউডারে ব্যবহৃত হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ভোক্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অ্যাসবেসটসের দূষণের কারণে কোম্পানির ট্যাল্কযুক্ত পণ্যে ক্যান্সার হয়েছে।

ট্যাল্ক মাটির নিচ থেকে খনন করে তোলা হয়। এর স্তর অ্যাসবেসটসের কাছাকাছি জায়গাতেই পাওয়া যায়। অ্যাসবেসটস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী একটা উপাদান হিসেবে পরিচিত।

জনসন অ্যান্ড জনসন বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যাল্ক নিরাপদ, এতে অ্যাসবেসটস নেই এবং এটা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।

২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছিল, তারা বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডার তৈরি এবং বিক্রি বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের বিক্রি বন্ধ করার দুই বছরেরও বেশি সময় পর এই ঘোষণা এসেছিল।

সেই সময় জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছিল, বৈশ্বিক পণ্য মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আমরা সম্পূর্ণ কর্নস্টার্চ-ভিত্তিক বেবি পাউডার পণ্যে রূপান্তরের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সূত্র- বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন

আপডেট সময় ০৩:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করতে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৬৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। কোম্পানিটির বেবি পাউডার এবং ট্যাল্ক উপাদানযুক্ত অন্যান্য পণ্যের কারণে ডিম্বাশয় ক্যানসার হয় বলে অভিযোগ ওঠায় এসব মামলা করা হয়েছিল।

নিউজার্সিভিত্তিক এই স্বাস্থ্যসেবা জায়ান্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা এ আইনি লড়াই শেষ করতেই এই ঐতিহাসিক নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের ট্যাল্কযুক্ত পণ্যে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা তাদের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বেবি পাউডারের ফর্মুলাও পরিবর্তন করেছে।

কোম্পানির মামলাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস সোমবার বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য জনসন অ্যান্ড জনসন সমঝোতায় রাজি হয়েছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী বছর তারা ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করবে। এরপর ২০২৮ সালের আগে আর কোনো অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে না তাদের।

জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, রাজ্য এবং ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয় ক্যান্সার সংক্রান্ত মামলার ৯৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রস্তাব মেনে নিতে হবে, তবেই এটি চূড়ান্ত হবে।

এক বিবৃতিতে হাস বলেন, তারা নিশ্চিত ছিলেন যে আরও আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতেন, যেমনটা এখন পর্যন্ত আদালতে বেশিরভাগ মামলায় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে কোম্পানি এই বিষয়টাকে পেছনে ফেলে জীবন বাঁচানোর ওষুধ এবং যন্ত্রপাতি তৈরির নিজেদের লক্ষ্যে মনোযোগ দিতে পারবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের সাবেক কনজিউমার হেলথ ব্যবসা কেনভিউ উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনের বেবি পাউডারের দায়ভার বহন করে। ব্যান্ড-এইড, লিস্টারিন এবং ক্যালপলের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের মালিক কেনভিউকে ২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন থেকে আলাদা করা হয়েছিল।

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডারের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের প্রথম দিকে।

চলতি জুলাই মাসের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত পৃথক বাদীরা তাদের ডিম্বাশয় ক্যানসরের সরাসরি কারণ হিসেবে ট্যাল্ককে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোম্পানিকে একটা জয় এনে দেয়।

ট্যাল্ক হলো ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরি একটা প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। এর সাবানের মতো নরম অনুভূতির জন্য এটি পরিচিত এবং সাধারণত বেবি পাউডারে ব্যবহৃত হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ভোক্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অ্যাসবেসটসের দূষণের কারণে কোম্পানির ট্যাল্কযুক্ত পণ্যে ক্যান্সার হয়েছে।

ট্যাল্ক মাটির নিচ থেকে খনন করে তোলা হয়। এর স্তর অ্যাসবেসটসের কাছাকাছি জায়গাতেই পাওয়া যায়। অ্যাসবেসটস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী একটা উপাদান হিসেবে পরিচিত।

জনসন অ্যান্ড জনসন বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যাল্ক নিরাপদ, এতে অ্যাসবেসটস নেই এবং এটা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।

২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছিল, তারা বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডার তৈরি এবং বিক্রি বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের বিক্রি বন্ধ করার দুই বছরেরও বেশি সময় পর এই ঘোষণা এসেছিল।

সেই সময় জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছিল, বৈশ্বিক পণ্য মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আমরা সম্পূর্ণ কর্নস্টার্চ-ভিত্তিক বেবি পাউডার পণ্যে রূপান্তরের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সূত্র- বিবিসি