দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন
ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত নৌ-শক্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ০৩:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন বাহিনীর ইউরোপিয়ান কমান্ডের সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউকম) প্রধান গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন।
তার মতে, দ্রুত আরেকটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একপর্যায়ে নিজস্ব বাহিনীর স্বার্থ রক্ষা অথবা ইসরাইলকে সুরক্ষা দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।
জেনারেল গ্রিনকেভিচ জানান, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই প্রচণ্ড চাপ বাড়ছে। বর্তমানে পাঁচটি মার্কিন নৌ-ডেস্ট্রয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন রয়েছে, যেগুলো ইসরাইলের আকাশ সুরক্ষায় কাজ করছে। চলতি বছরের শেষ দিকে আরো একটি ডেস্ট্রয়ার যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও, গত পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিদ্যমান জাহাজগুলোকে টানা অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমার পাশাপাশি জাহাজগুলোর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনকেভিচের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি বাইরের কোনো পর্যালোচক নন; বরং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা। তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা গভীর উদ্বেগেরই বাস্তব প্রতিফলন।
ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এসব জাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ‘এসএম-৩’ ও ‘এসএম-৬’ ঘরানার অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। তবে এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলেরও অন্যতম স্তম্ভ। চীনকে মোকাবিলায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, ন্যাটো মিত্রদের সুরক্ষায় ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথ পাহারায় এগুলোর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ফলে ইসরাইলের জন্য অতিরিক্ত জাহাজ মোতায়েন করা হলে অন্য কোনো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সক্ষমতা কমে যাবে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অস্ত্রাগারের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনী ২০০টিরও বেশি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা দেশটির মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার থেকে আরো শতাধিক ইন্টারসেপ্টর ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইসরাইল নিজেদের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও, বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে তাদের পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্রাগারের বড় একটি অংশ খালি করে ফেলেছে। পেন্টাগনের মজুত পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা ইতোমধ্যে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ, থাড ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উভয়েরই অন্তত ৫০ শতাংশ এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর বহরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘এসএম-৩’ ও ‘এসএম-৬’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশও এই সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি আধুনিক সামরিক বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। উন্নত প্রযুক্তির এসব সরঞ্জাম যে দ্রুততায় যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই একই গতিতে নতুন করে উৎপাদন বা মজুত গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী হয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একাধিক সংকট একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সম্পদের মারাত্মক টানাপোড়েনে পড়তে হচ্ছে।






















