বিএনপি সরকার এলে জাতীয় পার্টি বা জামায়াত করলে উন্নয়ন পাবেন কীভাবে- মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় ০৬:২৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
রংপুরের মানুষ দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, রাজনৈতিক বাস্তবতা না বুঝে বারবার ভিন্ন দলকে সমর্থন করায় এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রোববার (৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘লাভ শেয়ার বিডি’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২৫টি দুস্থ পরিবারের মাঝে চা-ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রংপুরের মানুষ হিসেবে আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে আছি। কেন পিছিয়ে? আমরা তো সঠিক বাস্তবতাই বুঝতে চাই না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনারা করেন জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি সরকারে থাকলে আপনারা করেন জামায়াত! তাহলে কীভাবে হবে? উন্নয়ন পাবেন কীভাবে? আমি বাস্তব সত্যটা এ কারণেই বলছি যে আপনাদের রাজনীতি ও উন্নয়নের গতিধারা বুঝতে হবে। বাস্তবতা না বুঝলে এগোনো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমবে। মধ্যপাড়া ও বড়পুকুরিয়ায় কয়লা ও পাথরের খনি রয়েছে। এগুলো একসময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেগুলো আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সেখানে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ যেন কৃষিতে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারেন, সেজন্য কৃষির বিভিন্ন খাতে কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে মানুষ খুব গরিব, খুব দরিদ্র। কিন্তু দরিদ্র থাকারও একটা কারণ আছে। আমাদের এই এলাকার মানুষের উদ্যোগ নেই, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস নেই। নতুন কিছু করার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, সেটাও নেই।
আমি সেই সূত্রেই আপনাদের বলেছিলাম, আমাদের দেশের, বিশেষ করে এই অঞ্চলের মানুষকে দেখবেন তারা বিদেশে যেতে চায় না। আপনি লন্ডনে গেলে দেখবেন বাঙালিতে গিজগিজ করছে। কারা? এই সিলেটিরা। শুনলে অবাক হবেন, লন্ডনে সিলেটিদের একটি শিল্প গড়ে উঠেছে। এটাকে সেখানে বলা হয় ‘কারি ইন্ডাস্ট্রি’ বা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। এই রেস্টুরেন্টগুলোর সঙ্গে সিলেটি মানুষের ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। সেখানে ১২ হাজারের বেশি রেস্টুরেন্ট নিয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি শিল্প গড়ে উঠেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের দেশে একটি বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় ১৫-১৬ বছরের ভয়াবহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা, ফ্যাসিজম বা স্বৈরাচারের পর মানুষের সামনে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন একটু দম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন আর শামুদের, সাইফুলদের অন্যের বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে হয় না, পালিয়ে থাকতে হয় না।
তিনি বলেন, সারা দেশে গত ১৫-১৬ বছরে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমার এখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রায় চার হাজার ছাত্র, শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেই সুযোগ হলো দেশটাকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যে ভাষায় কথা বলে সেটা তো গণতন্ত্রের ভাষা না। আমি ইলেকশনে জিতেছি, মেজরিটি পেয়েছি। আমি তো পার্লামেন্ট চালাব, দেশ চালাব সেই ম্যান্ডেট তো আমি পেয়েছি। অতএব আমাকে চালাতে দেন। ব্যর্থ হলে তখন না হয় আপনি বলবেন যে আপনি চালাতে পারেন নাই। তার আগেই রাস্তায় নেমে আপনার শুরু হয়ে গেছে সেই সমস্ত কথাবার্তা। আমরা উন্নয়নকাজ শুরু করেছি। এই উন্নয়নের কাজগুলো করতে সময় লাগে। একদিন বা দুইদিন হয় না। আজকে যেটা নতুন করে আপনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, এটা তিন বছর লাগবে কাজে আসতে, তাই না? তো এই কাজগুলো আমরা করতে চাই, সেভাবেই এগোতে চাই।’
সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, পত্রিকাগুলো আওয়ামী লীগের আমলে লিখতেই পারত না, কথা বলতেও সাহস করত না। সত্য-মিথ্যা যাই হোক এখন যা খুশি লিখতেছে। তারপরে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে যা খুশি তাই চালাচ্ছে তারা। যার সত্যতা বলতে কিছু থাকে না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদেরকে কিন্তু এগোতে হচ্ছে। জনগণের কাছে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ যে তাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা পালন করার চেষ্টা করব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















