ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উনি নিজেকে কী মনে করেন?-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন? আমি বুঝতে পারি না।

এদিন বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটা শাহবাগ নয় মহান জাতীয় সংসদ।’

এ বক্তব্যের পরপরই কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে উঠে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান কথা বলতে দাঁড়ালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কোনো মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আবাও উত্তপ্ত হয়ে সংসদ। বিরোধীদলীয় নেতা তখন বলে ওঠেন— ‘বক্তব্য কি আপনি দিবেন, না আমি দেব? আপনি দেন, আপনি দাঁড়ান, দাঁড়ান।’

এরপর স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘এটা অশোভন। এটা অশোভন। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’

একপর্যায়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মাইক মিউট করে সবাই থামান। এ সময় সংসদ স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে নিজের বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই—আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলা উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন আমি বুঝতে পারি না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন—তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে। উনার লেকচার শুনবেন।’

‘আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচার না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না। উনি ‘পল্টন’ আজকে নতুন করে বলেন নাই, হিট দিয়ে কথা বলেন নাই আজকে। আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। যদি এইটুকু করে, আমরা বসব। না হলে এখানে বসা, অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোন প্রশ্নই উঠে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

উনি নিজেকে কী মনে করেন?-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন? আমি বুঝতে পারি না।

এদিন বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটা শাহবাগ নয় মহান জাতীয় সংসদ।’

এ বক্তব্যের পরপরই কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে উঠে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান কথা বলতে দাঁড়ালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কোনো মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আবাও উত্তপ্ত হয়ে সংসদ। বিরোধীদলীয় নেতা তখন বলে ওঠেন— ‘বক্তব্য কি আপনি দিবেন, না আমি দেব? আপনি দেন, আপনি দাঁড়ান, দাঁড়ান।’

এরপর স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘এটা অশোভন। এটা অশোভন। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’

একপর্যায়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মাইক মিউট করে সবাই থামান। এ সময় সংসদ স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে নিজের বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই—আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলা উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন আমি বুঝতে পারি না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন—তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে। উনার লেকচার শুনবেন।’

‘আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচার না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না। উনি ‘পল্টন’ আজকে নতুন করে বলেন নাই, হিট দিয়ে কথা বলেন নাই আজকে। আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। যদি এইটুকু করে, আমরা বসব। না হলে এখানে বসা, অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোন প্রশ্নই উঠে না।’