কেরানীগঞ্জে গ্যাস নেই সাত দিন, কলকারখানা বন্ধ
- আপডেট সময় ০১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সাত দিন ধরে গ্যাস নেই। গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের হলেও গত সাত দিন ধরে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। গ্যাস না থাকায় চাপ বাড়ছে বিদ্যুৎ ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটও দেখা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনে অবৈধ সংযোগ দিয়েছে কতিপয় অসাধু চক্র। যে কারণে সারা বছরই গ্যাসের সংকট লেগে থাকে। কিন্তু গত সাত দিন ধরে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস না পাওয়ায় তিতাসের ৫,৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়। সংকট দেখা দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারেরও। জিনজিরার বাইরে অনেক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এবং সিলিন্ডার না পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৫৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের কয়েকটি দোকানে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, নাভানা এলপিজি ও টোটালগ্যাসের বোতল এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা জানান, গত সাত দিন ধরে জিনজিরাসহ কেরানীগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস নেই। গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এলাকার মানুষ বিদ্যুতের চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। অনেকে আবার রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি এজন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।
গ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কেরানীগঞ্জের গ্যাস বাড়ানোর জন্য কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাও এলাকায় ডিআরএসএ বাল্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তনের পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা শহরের গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে কেরানীগঞ্জের গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত খুব কম। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে প্রায় ২০-৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০-১২ থাকে। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনের প্রেসার ২ আছে। যে কারণে কেউ গ্যাস পাচ্ছে না। বড় ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রয়েছে।
এজন্য তিনি বার্নারের ছিদ্র বন্ধ, রেগুলেটর সমস্যা, পাইপ ভাঁজ বা লিক হওয়া, নিচু এলাকা হওয়া, গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়া এবং লাইনে চাপ কম থাকার কথাও স্বীকার করেন।
কেরানীগঞ্জে অসংখ্য অবৈধ তিতাস গ্যাসের লাইন রয়েছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত এক বছরে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন বলেও তিনি জানান।
কীভাবে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন ও চুলা এলাকায় চলছে—এ প্রশ্ন করা হলে ম্যানেজার বলেন, আমাদের অজান্তেই এগুলো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সদস্যরা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ লাইন স্থাপন করেছেন।



















