নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে জুবায়েরের বিস্ফোরক মন্তব্য
এবার নেতা বলবেন, “তুই শুধু রিটেনটা পাস কর…
- আপডেট সময় ০৫:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০ গ্রেড) পদে নিয়োগ বিধিমালায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার এ উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ধরেন, পড়াশোনা করে আপনি রিটেনে পেলেন ৪৫। কিন্তু ভাইভাতে আপনাকে দিলো ১০। মোট ৫৫। অন্য দিকে দলের চাটা কর্মীটা বা ঘুষদাতা লোকটা রিটেনে পেলো ৩০। কিন্তু ভাইভাতে তাকে দিয়ে দেয়া হলো ৪০। মোট ৭০! এখন চাকরি কার হবে ৫০ নাকি ৭০? এবার বুঝলেন…? নেতা বলবেন, ‘তুই শুধু রিটেনটা পাস কর, বাকিটা আমি দেখতেছি।’”
একই বিষয় নিয়ে এদিন পৃথক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মনে করেন আপনি চাকরির পরীক্ষা দিবেন। লিখিত অংশে ৫০ এর মধ্যে ৪০/৪৫ পেলেন। আপনার সাথেই আরেকজন পরীক্ষা দিয়ে কোনোমতে ৩০ মার্ক পেয়ে রিটেন পাস করেছে। এখন দুজনে ভাইভা দিবেন। ভাইভায় মার্ক ৫০। আপনি যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক ব্যাকআপ নাই, মামা-খালুর জোর নাই। ঘুষ দেয়ার মতো অঢেল টাকাও নাই। কিন্তু আপনার সাথের যেই লোক টেনেটুনে রিটেন পাস করেছে সেই লোক ক্ষমতাসীন দলের অনুগত কর্মী। মামা-খালুর জোর দেখানো, ঘুষ দেয়া সবই সে করেছে। এখন চাকরি হবে কার?’
‘আপনি যোগ্য হলেও আপনাকে চাকরি না দিয়ে আপনার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন ওই ঘুষ দেয়া বা রাজনৈতিক কর্মীটাকে চাকরি দেয়া এখন খুবই সহজ। জাস্ট ভাইভায় আপনাকে নাম্বার কমিয়ে দিয়ে ওকে একটু বাড়িয়ে দিলেই হবে। জ্বী, বিএনপি সরকার এই সিস্টেমই করছে। আগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে লিখিত ছিলো ৭৫ বা ৮০ মার্ক। ভাইবায় ছিলো ২০ বা ২৫। চাইলেও রিটেনে ভালো করা যোগ্য একজন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক চাটুকার বা অযোগ্য কাউকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ ছিলো না। এখন বিএনপি সরকার রিটেনে করেছে ৫০ আর ভাইভায় ৫০। মানে যাকে মন চায় তাকে নিয়োগ দিবে। জাস্ট ভাইভায় কারো মার্ক বাড়াবে আর কারোটা কমাবে! দা প্ল্যান!!’
এদিকে খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে মৌখিকের জন্য। ১৩-১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিকের নম্বর হবে ৬০ ও ৪০, আর ১৭-২০ গ্রেডে ২৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে ২৫ নম্বরেরই মৌখিক পরীক্ষা রাখা হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি’র বৈঠকে ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।



















