ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েটে শিক্ষার্থীকে গলা চেপে মারধর-ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১৮ বার পড়া হয়েছে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে মারধর, গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে কুয়েট ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল ও শহীদ স্মৃতি হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রাহাতুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, কুয়েটের ইইই বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহমিদুল হক তামিমকে বিদায় জানাতে ফুলবাড়ী গেট এলাকায় যান। রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে খানজাহান আলী হলের সামনে পৌঁছালে কুয়েট ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা ২২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন।

পরে ভ্যানে করে শহীদ স্মৃতি হল এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসময় তিনি নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আশ্রয় নিলে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইএসই বিভাগের ২২ ব্যাচের আল সাদ রাজিন, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের লোটাস, ইসিই বিভাগের ২২ ব্যাচের পীযূষসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর লোটাস ও পীযূষ তার গলা চেপে ধরে মারধর ও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, এ সময় তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে নানা ধরনের রাজনৈতিক তকমা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় তার পরনের পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানান রাহাতুল। একই সময়ে তার মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার পর বিষয়টি হল প্রভোস্ট ও সহকারী হল প্রভোস্টকে অবহিত করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহাতুল ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইএসই বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আল সাদ রাজিন বলেন, “কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে সেখানে কাউকে মারধর করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজিন বলেন,“ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ফোন নেওয়া হয়নি। সে কোন কোন পেজ পরিচালনা করে, তা দেখার জন্য ফোনটি নেওয়া হয়েছিল। পরে ফোন ফেরত দিতে গেলে তার রুম বন্ধ পাওয়া যায়।”

তবে ভুক্তভোগী রাহাতুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরদিন দুপুর পর্যন্তও তার ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাতেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আশা করছি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন