সরকারি রাস্তার ইট তুলে কাবিটা প্রকল্পে ব্যবহার করলেন ইউপি সদস্য
- আপডেট সময় ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরায় একটি হেরিংবোন সড়ক থেকে বিপুল পরিমাণ ইট তুলে অন্য একটি কাবিটা প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নতুন ইটের পরিবর্তে পুরোনো ইট ব্যবহার করে প্রকল্পের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।
আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাঁসখালী গ্রামের এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তিনি রাস্তার ইট আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ইটের হেরিংবোন করা ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সড়কটি থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার ইট তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা এতে বাধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি। পরে ইট তুলে নেওয়ার কারণে বর্ষায় সড়কের মাটি ধুয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও নিচু অংশ তৈরি হয়। এতে যানবাহন চলাচলসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সড়ক থেকে তুলে নেওয়া ইটের একটি অংশ হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত অন্য একটি সড়কে কাবিটা প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে নতুন ইট না কিনে পুরোনো সরকারি রাস্তার ইট ব্যবহার করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাবুরাম মণ্ডল বলেন, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার অধিকাংশ ইট তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্রামবাসী বাধা দেন।
তার দাবি, সেসময় স্থানীয়দের বলা হয়েছিল ইট অন্য একটি কাজে ব্যবহার করার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে আর সড়কটি সংস্কার করা হয়নি।
বাবুরাম মণ্ডল বলেন, সরকারি রাস্তা থেকে কার অনুমতিতে ইট তোলা হলো এবং রাস্তা নষ্ট হওয়ার পর সেটি মেরামতের দায়িত্ব কে নেবে, আমরা এর তদন্ত চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ভক্ত কুমার বৈরাগীর অভিযোগ, হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে কাবিটা প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ থাকলেও সেখানে নতুন ইট ব্যবহার করা হয়নি।
তার দাবি, অন্য রাস্তা থেকে তুলে আনা ইট এবং স্কুলের মাঠের বালু ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। পরে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল তোলা হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে ভয়ভীতি দেখানো হতে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকে বক্তব্য দিতে চান না।
তাদের দাবি, সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়া হয়েছে কি-না, সেসব ইট অন্য প্রকল্পে ব্যবহার হয়েছে কি-না এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না, এসব বিষয় প্রশাসনের তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকার। যোগাযোগ করা হলে তিনি রাস্তার ইট আত্মসাৎ করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তবে কাবিটা প্রকল্পে ওই রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






















