ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (MIET-2026)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। তাই প্রচলিত শিল্পের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর ও বাজারজাত করতে কাজ করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।”

স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানে উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, “স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানে উদ্যোগ বাড়াতে হবে। ফান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উদ্যোগের অভাব। সমন্বিতভাবে কাজ করলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম।

সম্মেলনের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষক অংশ নিয়েছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ সম্মেলন গবেষকদের জন্য একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম এবং দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

আয়োজকরা জানান, MIET-2026-এর নির্বাচিত গবেষণাপত্রের Proceedings আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Lecture Notes in Networks and Systems (LNNS) সিরিজে প্রকাশিত হবে। LNNS সিরিজটি DBLP, EI Compendex, INSPEC, SCImago এবং Scopus-এ ইনডেক্সড। ফলে সম্মেলনে উপস্থাপিত ও নির্বাচিত গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে দৃশ্যমানতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সম্মেলনে মোট ৩৩৫টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে পর্যালোচনা শেষে ৫৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, যা জমা পড়া মোট গবেষণাপত্রের প্রায় ১৬ শতাংশ। গবেষণাপত্র মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ২১১ জন রিভিউয়ার যুক্ত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক ও উদীয়মান প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (MIET-2026)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। তাই প্রচলিত শিল্পের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর ও বাজারজাত করতে কাজ করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।”

স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানে উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, “স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানে উদ্যোগ বাড়াতে হবে। ফান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উদ্যোগের অভাব। সমন্বিতভাবে কাজ করলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম।

সম্মেলনের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষক অংশ নিয়েছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ সম্মেলন গবেষকদের জন্য একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম এবং দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

আয়োজকরা জানান, MIET-2026-এর নির্বাচিত গবেষণাপত্রের Proceedings আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Lecture Notes in Networks and Systems (LNNS) সিরিজে প্রকাশিত হবে। LNNS সিরিজটি DBLP, EI Compendex, INSPEC, SCImago এবং Scopus-এ ইনডেক্সড। ফলে সম্মেলনে উপস্থাপিত ও নির্বাচিত গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে দৃশ্যমানতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সম্মেলনে মোট ৩৩৫টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে পর্যালোচনা শেষে ৫৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, যা জমা পড়া মোট গবেষণাপত্রের প্রায় ১৬ শতাংশ। গবেষণাপত্র মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ২১১ জন রিভিউয়ার যুক্ত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক ও উদীয়মান প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিয়েছেন।