জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিরাপত্তাহীনতায় নবমুসলিম পরিবার
- আপডেট সময় ০৫:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের উজিরপুরে নবমুসলিম হওয়ার পর থেকে মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুরুল ইসলাম খান ও তার ছেলে নুরুজ্জামান খান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে বাপ-দাদার ৮১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৩৫ বছর ধরে মামলা চলার কথা জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বরুণ মিত্রের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা নিজেদের বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার বাবা নবমুসলিম হওয়ার পর থেকেই তাকে মারধর করা হচ্ছে। আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
জমির মালিকানা নিয়ে নুরুজ্জামান খানের দাবি, বিরোধপূর্ণ ৮১ শতাংশ জমি তার দাদার সম্পত্তি। অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ জমি ভিপি সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরের নামে রয়েছে। এই দুই সম্পত্তির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বরুণ মিত্র তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা করে হয়রানি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরে প্রায় ৪৫ বছর ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নামসংকীর্তন, পূজা-অর্চনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে আসছেন।
গত ৮ অক্টোবর মন্দিরের মূল ফটকের নামফলক পরিবর্তন করে সেখানে ‘খানবাড়ী’ লেখা একটি নামফলক স্থাপন করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দিরের জমি দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি বরুণ মিত্র বলেন, ‘আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নুরুল ইসলাম খানরা ওই সম্পত্তি দখলে আছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আদালত যে রায় দেবেন, তার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে। নুরুজ্জামান খানকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি এবং মন্দিরের ফটকের নামফলক পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরোধ চলছে। এক পক্ষ নিজেদের সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বরুণ মিত্র থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
নুরুল ইসলাম খান ও তার ছেলের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তি এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।























