ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে যবিপ্রবিতে ‘ইকো অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারার বিকাশের লক্ষ্যে ‘ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (আইএএএস) বাংলাদেশের যবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিউল হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স শিক্ষার্থী আখতারুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “একটি ছোট গাছ মানুষের সারা জীবনের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আইএএএস ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে আশা করি। সংগঠন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি মানুষের মনোভাব বোঝা, সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “এ ধরনের সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সক্রিয় ক্লাবগুলোকে উৎসাহিত করতে ‘বেস্ট ক্লাব অ্যাওয়ার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে। আইএএএস বাংলাদেশ যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান তাঁর বক্তব্যে আইএএএস বাংলাদেশের কার্যক্রম, সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারবেন, সে বিষয়েও তিনি ধারণা দেন।

আইএএএস বাংলাদেশের যবিপ্রবি শাখার লোকাল ডিরেক্টর মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, “ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ আয়োজন সফল ও অর্থবহ করে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, আয়োজক কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতাই এ আয়োজনের সফলতার মূল ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, “আইএএএস বাংলাদেশ যবিপ্রবি কেবল একটি শিক্ষার্থী সংগঠন নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণামনস্কতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে সহায়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি এবং সচেতন, দক্ষ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে যবিপ্রবিতে ‘ইকো অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারার বিকাশের লক্ষ্যে ‘ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (আইএএএস) বাংলাদেশের যবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিউল হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স শিক্ষার্থী আখতারুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “একটি ছোট গাছ মানুষের সারা জীবনের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আইএএএস ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে আশা করি। সংগঠন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি মানুষের মনোভাব বোঝা, সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “এ ধরনের সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সক্রিয় ক্লাবগুলোকে উৎসাহিত করতে ‘বেস্ট ক্লাব অ্যাওয়ার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে। আইএএএস বাংলাদেশ যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান তাঁর বক্তব্যে আইএএএস বাংলাদেশের কার্যক্রম, সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারবেন, সে বিষয়েও তিনি ধারণা দেন।

আইএএএস বাংলাদেশের যবিপ্রবি শাখার লোকাল ডিরেক্টর মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, “ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ আয়োজন সফল ও অর্থবহ করে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, আয়োজক কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতাই এ আয়োজনের সফলতার মূল ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, “আইএএএস বাংলাদেশ যবিপ্রবি কেবল একটি শিক্ষার্থী সংগঠন নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণামনস্কতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে সহায়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি এবং সচেতন, দক্ষ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”