ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাবিতে ছাত্রদলের দুই ‘অছাত্রের’ ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতা এবং জিয়া হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। তারা হলেন আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) আহসান হাবিব এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল শাখা ছাত্রদল। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার সংগঠন থেকে বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাকে সহসভাপতি পদে রাখা হয়। সবশেষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আবারও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে তাকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

সুপারিশপ্রাপ্ত আরেকজন হলেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

হাসিবুলের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও বর্তমানে তিনি ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এ কারণে তার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পরে তাকে আবারও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আহসান হাবিব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল হাসান ও রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাবিতে ছাত্রদলের দুই ‘অছাত্রের’ ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

আপডেট সময় ১১:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতা এবং জিয়া হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। তারা হলেন আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) আহসান হাবিব এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল শাখা ছাত্রদল। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার সংগঠন থেকে বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাকে সহসভাপতি পদে রাখা হয়। সবশেষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আবারও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে তাকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

সুপারিশপ্রাপ্ত আরেকজন হলেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

হাসিবুলের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও বর্তমানে তিনি ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এ কারণে তার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পরে তাকে আবারও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আহসান হাবিব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল হাসান ও রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে।