ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে বেধড়ক পেটালো ছাত্রদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে জুয়েল হোসেন নামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. শাহেদের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহেদকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে একজন রোগীকে এভাবে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথিও মারা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মুঠোফোন কেনাবেচা নিয়ে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারি হয়। পরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যান জুয়েল। রাতে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে জুয়েলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। শাহেদও সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর কক্ষের ভেতরে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, শাহেদ দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো পদ-পদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভির বরাতে জানা গেছে, শাহেদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, “হাসপাতালে হামলার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় হামলার চিত্র সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও আতঙ্কে আছি।”

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে বেধড়ক পেটালো ছাত্রদল নেতা

আপডেট সময় ১০:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে জুয়েল হোসেন নামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. শাহেদের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহেদকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে একজন রোগীকে এভাবে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথিও মারা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মুঠোফোন কেনাবেচা নিয়ে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারি হয়। পরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যান জুয়েল। রাতে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে জুয়েলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। শাহেদও সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর কক্ষের ভেতরে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, শাহেদ দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো পদ-পদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভির বরাতে জানা গেছে, শাহেদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, “হাসপাতালে হামলার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় হামলার চিত্র সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও আতঙ্কে আছি।”

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।