‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মজা করে বলছিলেন, তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে, ওরা জ্বলতে থাকুক’
- আপডেট সময় ০১:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে মজা করে বলেছেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে জিহ্বাটা বের করে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ বা ২০২৪ এর সহযোদ্ধারা যারা রাজনীতিতে সময় দিচ্ছেন কয়েকজন বাদে বেশিরভাগকেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট হতে চেয়ে চিনতে চলতে হয়। আমিও এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে চলেছি কিছু দিন। কি করব, তখন না পারছিলাম কর্মে ফিরতে না পারছিলাম আন্দোলন ছেড়ে দিতে। প্রবাসী ভাইদের দেওয়া অর্থে আমি খেয়েছি, গাড়ি ভাড়া দিয়েছি, বাসা ভাড়াও দিয়েছি।’
তারেক বলেন, ‘কিন্তু আমি এই চক্র থেকে বের হয়ে কিছু কাজ করে খেতে চেয়েছি। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে আমাকে অনেক ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফল ব্যবসা করেছি, মধু ব্যবসা করেছি। আমি জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি কিছু একটা কর্ম থেকে আমার খাবার, বাসা ভাড়া জোগাড় করতে। এটা যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে আর কি করার আছে।’
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার অতটা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু যখন সুযোগ পেয়েছি আল্লাহর হাতে জান সঁপে দিয়ে ইফোর্ট দিয়েছি মুক্তির লড়াইয়ে।’ ২০১৮ সালের ধারালো ফলার মতো লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের জনপ্রিয় লিফলেট তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার গুম হন। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি তাঁকে তৃতীয়বার আটক করে। এরপর ২২ জুলাই ডিজিএফআইয়ের হাতে চতুর্থবার আটক হন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডেও ছিলেন বলে জানান।
এসব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এগুলোই তাঁর কিছুটা মনে আছে এবং এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ পাননি। জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে তাঁর বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে নারাজ বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’
জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না, এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াই বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পর তারা ভারতের কাছে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারেক রহমানের ভাষ্য, ২৮ আগস্ট ২০২৪ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। ভারতও তাদের সাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বৈঠকের খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ধরা পড়ার পর জামায়াতের আমির তা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধেও ভারতের ‘র’-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তোলেন তিনি। সরকারের আট মাস না যেতেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটি পক্ষ অস্থির হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বারবার খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর অস্তে তার বিষয়ে যেন খোঁজ-খবর নেয় বার বার।’
নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে তারেক রহমান জুলাইয়ের মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, ‘জামিনে থাকার সময় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। আর আমি এদের হয়রানিতে একদম বিচলিত না। আজ একটা দাবি জানাই, জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি জেলে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে তাকে যেন জামিন দেন আদালত। পরবর্তীতে জামিনে থাকাকালে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেফতার করবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এটাই জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।’
পোস্টের শেষাংশে বাংলাদেশপন্থি দল, বিদেশে শাখা নেই এমন জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসা জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, ‘আর ভালোবাসা জানাই আমার প্রধানমন্ত্রীকে আমাকে তার সঙ্গে রাখার জন্য।’
তথ্যসূত্র: ডেইলি ক্যাম্পাস





















