ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক মন্তব্যের জেরে শিবিরকর্মীকে বেধড়ক মারধর করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:২১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের হারাগাছ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। তাদের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিবিরকর্মী মো. আহসান হাবিব।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত একটি চরমোনাই মাহফিলে জিকিরের সময় অংশগ্রহণকারীদের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকার বাঁধসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিবের দাবি, অভিযুক্তদের একজন কথা বলার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার ফেসবুক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একপর্যায়ে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। তিনি প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

আহসানের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

লিখিত অভিযোগে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, শরীফ মিজান, নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়াতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে তারা সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে আটক চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অনলাইন মতবিরোধের কারণে এমন সহিংসতা সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুক মন্তব্যের জেরে শিবিরকর্মীকে বেধড়ক মারধর করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা

আপডেট সময় ০৮:২১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রংপুরের হারাগাছ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। তাদের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিবিরকর্মী মো. আহসান হাবিব।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত একটি চরমোনাই মাহফিলে জিকিরের সময় অংশগ্রহণকারীদের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকার বাঁধসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিবের দাবি, অভিযুক্তদের একজন কথা বলার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার ফেসবুক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একপর্যায়ে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। তিনি প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

আহসানের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

লিখিত অভিযোগে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, শরীফ মিজান, নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়াতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে তারা সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন। বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে আটক চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অনলাইন মতবিরোধের কারণে এমন সহিংসতা সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।