‘মামলা করলে আবার মারব’এলজিইডি কর্মকর্তাকে বিএনপি নেতার হুমকি
- আপডেট সময় ০৫:২৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নড়িয়া থানায় একটি জিডি করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর প্রায় ২টার দিকে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে এসে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী রাস্তার কাজ পরিদর্শনে রয়েছেন বলে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে চড় মারেন।
একই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারতে এসেছেন বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান সাগর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা বা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং ক্ষতি করবেন।
এ ঘটনার পর থেকে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার এক মাস পর কেন জিডি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আগেই ঘটেছিল, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে আমার কিংবা আমাদের অফিসের অন্য কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমি জিডি করেছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















