চট্টগ্রামে এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা
- আপডেট সময় ০৫:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
আওয়ামী লীগ আমলে লুটেরা শিল্প গ্রুপ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এস আলমের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো কারখানা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব কারখানার নোটিশ বোর্ডে বন্ধ সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আজ ১ আগস্ট থেকে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। এগুলোতে কর্মরত প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে পর্যায়ক্রমে তাদের পাওনা বুঝে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় নোটিশে।
শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার কাজ শেষে ফিরে আসার পর কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যেসব শ্রমিক এখনও বেতন তালিকায় রয়েছেন, তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে সব বকেয়া ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্মী হাশমত আলী, তিনি ২৭ বছর ধরে এই কারখানায় কর্মরত আছেন। তিনি জানান, গত ২ বছর ধরেই তাদের কারখানায় সংকট চলছে। কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থিক সংকটে বেতন ভাতাও অনিয়মিত হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা গত ২/৩ মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার অফিস করে বাড়িতে আসার পর সহকর্মীদের কাছে শুনেছেন কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
একই কারখানার কর্মচারী আব্দুর রহমান জানান, গত বছরের আগস্টে কোম্পানির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই কারখানাগুলো সংকটে পড়ে।
গুদামে থাকা কাঁচামাল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালানো হয়েছে। এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। তার দাবি, উৎপাদন সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও গ্রুপটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে।
কয়েক মাস আগে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে সব পাওনা বুঝিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে। সবশেষ পুরো কারখানায় বন্ধ ঘোষণা করতে হলো।
বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি ফিড মিলসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট।
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার ঘটনা কাছে অতীতে হয়নি চট্টগ্রামে।
এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।













