কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক দক্ষতায় প্রশিক্ষণ পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় ০৭:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৪০ শিক্ষার্থীকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। নোবিপ্রবি ও এটুআইয়ের যৌথ আয়োজনে চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চারটি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন এবং হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট সাম্স উল আরেফিন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এটুআইয়ের ফিউচার অব ওয়ার্ক টিম লিড সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ উজ্জ্বল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার মো. হাছান উদ্দীন, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুন নবী, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে ধারণ করে দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রবন্ধ, আর্টিকেল ও গবেষণায় এআই ব্যবহার করা গেলেও চৌর্যবৃত্তি পরিহার করে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সাম্স উল আরেফিন খান বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; নতুন কিছু শেখা এবং প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতাও প্রয়োজন। এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি এআই টুলের ব্যবহার শেখানো নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মজীবনের বাস্তব প্রয়োজনে এআই কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করা।
প্রশিক্ষণে এআই, মেশিন লার্নিং ও জেনারেটিভ এআইয়ের মৌলিক ধারণার পাশাপাশি বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের হাতে-কলমে অনুশীলন করানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর প্রম্পট লেখা, জীবনবৃত্তান্ত ও কভার লেটার তৈরি, চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, গবেষণা ও একাডেমিক লেখালেখি, তথ্য যাচাই, প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং ‘ভাইব কোডিং’।
এ ছাড়া এআইয়ের নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার, সম্ভাব্য পক্ষপাত ও সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়েও প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হচ্ছে। এআই টুলে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া এবং এআই থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের আগে তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল দক্ষতার চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারে তরুণদের সক্ষম করে তোলাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া হবে।























