ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই উপজেলায় ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ইতোমধ্যে মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাতে বিজিবি সদস্যরা শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবস্থান নেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে তারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচন-পূর্ব পাঁচ দিন, নির্বাচনকালীন সময় এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলসহ সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দুই উপজেলায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে তারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরাও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।

শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ‘৪ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে।’

তিনি আরও জানান, শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এ কারণে বিজিবির উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১৬ প্লাটুনে প্রায় ৩২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে র‌্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করবে এবং আরও ৪টি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এ ব্যবস্থা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আপডেট সময় ০২:০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই উপজেলায় ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ইতোমধ্যে মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাতে বিজিবি সদস্যরা শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবস্থান নেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে তারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচন-পূর্ব পাঁচ দিন, নির্বাচনকালীন সময় এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলসহ সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দুই উপজেলায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে তারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরাও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।

শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ‘৪ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে।’

তিনি আরও জানান, শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এ কারণে বিজিবির উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১৬ প্লাটুনে প্রায় ৩২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে র‌্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করবে এবং আরও ৪টি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এ ব্যবস্থা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।