বিএনপির দলীয় বৈঠকের ছবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলে মিডিয়াকে সরবরাহ
- আপডেট সময় ০১:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস আজ রোববার সকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যার শিরোনাম, “রাত ৩টা পর্যন্ত অফিশিয়াল কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী”। তবে বাসস এর শিরোনাম থেকে স্পষ্ট নয় তারেক রহমান গভীর রাতে বিএনপির কার্যালয়ে বসে যে ‘অফিশিয়াল কাজ করেছেন’ তা ‘প্রধানমন্ত্রীর অফিশিয়াল কাজ’, নাকি ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিশিয়াল কাজ’।
প্রতিবেদনের শুরুতে লেখা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে গভীর রাত পর্যন্ত অফিশিয়াল কাজ করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন।” অর্থাৎ, গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত তার দল বিএনপির কার্যালয়ে বসে দলীয় কার্যক্রম করেছেন।
প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশ থেকে জানা আরও যায়, গতরাতের বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন”। বাসস তাদের প্রতিবেদনে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের সাথে বসে নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া অবস্থায় তারেক রহমানের একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
ছবিটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে গভীর রাত পর্যন্ত অফিসিয়াল কাজ করেছেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়”। অর্থাৎ, বিএনপির দলীয় বৈঠকের ছবি মিডিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর কাছে দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী যখন দলীয় কাজ করেন তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রিসোর্স ব্যবহার করে দলীয় কাজ করা হলে স্বার্থের সংঘাত দেখা দেয় কিনা?
তিনি বলেছেন, “এটা তো দলীয় কার্যালয়ে হয়েছে। যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে উনি দলীয় কাজ করতেন তাহলে আপনি তা বলতে পারতেন। ছবিটা যে তুলেছে সে হয়তো ক্রেডিটটা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোকজন যায়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কি যাবে না? তারা ছবি তুলতেই পারেন।”
তবে তার সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, “প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের একটা রুলস অব বিজনেস আছে। কার কী কাজ সেটা রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এ বলা আছে। প্রধানমন্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন সেটার খবর দেওয়ার দায়িত্ব তার প্রেস উইংয়ের, কিন্তু তিনি যখন দলীয় কাজ করবেন সেটা দলের মিডিয়া উইং প্রচার করবে। এরকম হওয়াটাই বাঞ্চনীয়।”
তবে অনভিজ্ঞতার কারণে এসব অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে মত দিয়ে তিনি বলেন, “এখন সরকার নতুন, রুলস অব বিজনেস সম্পর্কে অনভিজ্ঞ, সেকারণেই সম্ভবত এসব হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অন্য মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলছেন।”
এ ব্যাপারে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা নাই। কিন্তু আমাদের দেশে যেটা হয় দল আর সরকার মিলে মিশে এক হয়ে যায়। দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান আলাদা ব্যক্তি হওয়ার সংস্কৃতি আমাদের গড়ে ওঠেনি। এজন্যই তো সংস্কার প্রস্তাব ছিল দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান আলাদা ব্যক্তি হবেন। কিন্তু সেটা তো হলো না।”
























