দেশের দুই প্রান্তে এক রাতে নারী-শিশুসহ সাতজনকে গলা কেটে হত্যা
- আপডেট সময় ০২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর নিয়ামতপুর এবং কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি নৃশংস ঘটনায় শিশুসহ মোট সাতজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতের এসব ঘটনায় নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন এবং টেকনাফে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার দিবাগত (২০ এপ্রিল) রাতে এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও তিন বছরের শিশুসন্তান সাদিয়া খাতুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে বাড়িতে হানা দেয়। খুনিরা দম্পতিকে গলা কেটে এবং তাদের দুই অবুঝ সন্তানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে বিছানায় চাদর দিয়ে ঢেকে রাখে। মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুরের বাবা দরজার সামনে রক্ত দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দুর্বৃত্তরা পপি খাতুনের কানের রিং পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ডাকাতির ঘটনা। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই ডাকাতরা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে উপকূলীয় বাহারছড়া উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন-রুহুল আমিনের ছেলে রবি আলম, নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ এবং নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর প্রকাশ হালানি। তিনজনই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এরা তিনজন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে কারা জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কী কারণে এমন হয়েছে, বুঝতে পারছি না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভয়ে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
পৃথক এই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।





















