ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির আওতায় খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর এলাকার তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এই প্রকল্পের অধীনে মোট ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণে মোট ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪.৮৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের অভিযোগ, খাল দুটি খননের নামে মূলত সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। দরপত্রের শিডিউল অনুযায়ী খনন না করে কেবল খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি সরিয়ে নালা বা ‘ব্যারের’ মতো তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি খাল খনন নয়, বরং অর্থ লুটপাটের একটি সাজানো প্রক্রিয়া।

স্থানীয়রা জানান, খাল খননের উদ্দেশে কয়েকদিন আগে খালের শুরু থেকে দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খালের পাড় খাড়া (তির্যক) ভাবে খনন করায় যে কোন সময় পাড় ভেঙ্গে পড়ে খাল ভরাট হয়ে যাবে। বড় পরিসরে খাল খনন করা হবে এবং এর ফলে সেচ সুবিধা বাড়বে এমন আশায় ক্ষতিগ্রস্থরা তখন বাধা দেননি। কিন্তু বর্তমানে ভেকু মেশিন দিয়ে দায়সারাভাবে খনন করায় কৃষকরা একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে খালের সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খনন করা হলে কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সুযোগ পেত। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে কৃষকদের কোনো উপকারেই আসবে না এই খাল।

দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে এ বিষয়ে খাল খনন সমিতির সভাপতি আ. সালাম খান বলেন, তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননে সরকারি নীতিমালা মেনে সিডিউইল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তবে দু’এক যায়গায় খালের পাড়ে বসত ঘর থাকায় সেক্রিফাইস করে কাটা হচ্ছে। সেটা অফিস থেকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অভিজিৎ মজুমদার দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খনন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের তদারকি করা হচ্ছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটার কোনো সুযোগ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজাপুরে খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির আওতায় খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর এলাকার তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এই প্রকল্পের অধীনে মোট ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণে মোট ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪.৮৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের অভিযোগ, খাল দুটি খননের নামে মূলত সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। দরপত্রের শিডিউল অনুযায়ী খনন না করে কেবল খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি সরিয়ে নালা বা ‘ব্যারের’ মতো তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি খাল খনন নয়, বরং অর্থ লুটপাটের একটি সাজানো প্রক্রিয়া।

স্থানীয়রা জানান, খাল খননের উদ্দেশে কয়েকদিন আগে খালের শুরু থেকে দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খালের পাড় খাড়া (তির্যক) ভাবে খনন করায় যে কোন সময় পাড় ভেঙ্গে পড়ে খাল ভরাট হয়ে যাবে। বড় পরিসরে খাল খনন করা হবে এবং এর ফলে সেচ সুবিধা বাড়বে এমন আশায় ক্ষতিগ্রস্থরা তখন বাধা দেননি। কিন্তু বর্তমানে ভেকু মেশিন দিয়ে দায়সারাভাবে খনন করায় কৃষকরা একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে খালের সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খনন করা হলে কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সুযোগ পেত। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে কৃষকদের কোনো উপকারেই আসবে না এই খাল।

দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে এ বিষয়ে খাল খনন সমিতির সভাপতি আ. সালাম খান বলেন, তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননে সরকারি নীতিমালা মেনে সিডিউইল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তবে দু’এক যায়গায় খালের পাড়ে বসত ঘর থাকায় সেক্রিফাইস করে কাটা হচ্ছে। সেটা অফিস থেকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অভিজিৎ মজুমদার দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খনন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের তদারকি করা হচ্ছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটার কোনো সুযোগ নেই।