ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবি সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার দুদিনেও শাহবাগ থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১০ জন সাংবাদিককে আহত করার ঘটনায় দুই দিনেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাত ৮টায় মামলা করতে গেলে খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ‘একপ্রকার আত্মগোপনে’ চলে যান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের বর্তমান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হলেন মো. মাসুদ আলম মামলার কাগজ গ্রহণ করলেও রবিবার বিকেলে ্এই রিপোর্ট করা পর্যন্ত মামলা লিপিবদ্ধ হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা শাহবাগ থানার সামনে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা সেখানে ভিডিও করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে এর কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গালাগালি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে একটি মব তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। ঘটনার পর আহতদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১০ জন সদস্য শাহবাগ থানায় যান। তারা আগের রাতে থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে সেখানে উপস্থিত হন। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

এদিকে অভিযোগপত্রটি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম গ্রহণ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হলে মামলার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে রাত বাড়লেও তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে থাকে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করলেও এখনো মামলা গ্রহণের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ডিসির বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারা একটি উদ্বেগজনক বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে সাংবাদিকদের ওপর মব করে হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে মামলা গ্রহণে বিলম্ব স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অসম্মান বলে মনে করছেন তারা। তার মতে, এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবি সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার দুদিনেও শাহবাগ থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১০ জন সাংবাদিককে আহত করার ঘটনায় দুই দিনেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাত ৮টায় মামলা করতে গেলে খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ‘একপ্রকার আত্মগোপনে’ চলে যান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের বর্তমান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হলেন মো. মাসুদ আলম মামলার কাগজ গ্রহণ করলেও রবিবার বিকেলে ্এই রিপোর্ট করা পর্যন্ত মামলা লিপিবদ্ধ হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা শাহবাগ থানার সামনে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা সেখানে ভিডিও করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে এর কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গালাগালি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে একটি মব তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। ঘটনার পর আহতদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১০ জন সদস্য শাহবাগ থানায় যান। তারা আগের রাতে থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে সেখানে উপস্থিত হন। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

এদিকে অভিযোগপত্রটি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম গ্রহণ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হলে মামলার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে রাত বাড়লেও তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে থাকে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করলেও এখনো মামলা গ্রহণের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ডিসির বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারা একটি উদ্বেগজনক বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে সাংবাদিকদের ওপর মব করে হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে মামলা গ্রহণে বিলম্ব স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অসম্মান বলে মনে করছেন তারা। তার মতে, এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি