ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী শিক্ষার্থীর অগোচরে ভিডিও ধারণ: বিচারের দাবিতে যবিপ্রবিতে মানববন্ধন ও ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দ্বারা এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেই মানববান্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রক্টরিয়াল বডিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার ইলা বলেন, “যবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আশ্বাস দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে স্থগিত কর্মসূচি পুনরায় শুরু হবে এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে সকাল ১০টায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ১০ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমানের কাছে জমা দেয় ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব। স্মারকলিপিতে সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার, টিকটক ও অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা, ক্যাম্পাসে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগতদের প্রবেশ রোধ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ইভটিজিং, হয়রানি ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ও উচ্চগতির মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ, টিকটকসহ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্যাম্পাস মনিটরিং ও নিরাপত্তা তদারকি জোরদার, নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তাদের দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়নের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এসে আড়ারদাহ গ্রামের ইউপি সদস্যের ছেলে সুজন, ইতালি প্রবাসী বাবুর ভাই আব্দুর রহমান ও ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ কয়েকজন বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে ওই নারী শিক্ষার্থীর অগোচরে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, “বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের বোনদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রক্টর আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এ বিষয়ে আজকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, “অভিযুক্ত বহিরাগতদের চিহ্নিত করে তাদের অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।” প্রক্টর আরও জানান, চৌগাছা থানার পুলিশ ও ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সহায়তায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নারী শিক্ষার্থীর অগোচরে ভিডিও ধারণ: বিচারের দাবিতে যবিপ্রবিতে মানববন্ধন ও ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দ্বারা এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেই মানববান্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রক্টরিয়াল বডিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার ইলা বলেন, “যবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আশ্বাস দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে স্থগিত কর্মসূচি পুনরায় শুরু হবে এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে সকাল ১০টায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ১০ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমানের কাছে জমা দেয় ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব। স্মারকলিপিতে সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার, টিকটক ও অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা, ক্যাম্পাসে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগতদের প্রবেশ রোধ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ইভটিজিং, হয়রানি ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ও উচ্চগতির মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ, টিকটকসহ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্যাম্পাস মনিটরিং ও নিরাপত্তা তদারকি জোরদার, নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তাদের দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়নের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এসে আড়ারদাহ গ্রামের ইউপি সদস্যের ছেলে সুজন, ইতালি প্রবাসী বাবুর ভাই আব্দুর রহমান ও ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ কয়েকজন বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে ওই নারী শিক্ষার্থীর অগোচরে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, “বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের বোনদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রক্টর আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এ বিষয়ে আজকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, “অভিযুক্ত বহিরাগতদের চিহ্নিত করে তাদের অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।” প্রক্টর আরও জানান, চৌগাছা থানার পুলিশ ও ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সহায়তায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।