ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিন্দু নারীর ঘর থেকে উলঙ্গ অবস্থায় যুবদল নেতা আটক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক হিন্দু নারীর ঘর থেকে উলঙ্গ অবস্থায় আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা হরিনগর গ্রামের এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে ভেতর থেকে আটকানো একটি কক্ষের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটক করা হয়। তখন তার শরীরে কোন জামা-কাপড় ছিল না। এরপর তাকে ঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর এবং যুবদল নেতা হাফিজ কল্লোল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, আবু হামজাসহ কয়েকজন জানান, আব্দুল মান্নান ও ওই নারী একই এনজিওতে কাজ করার সুবাদে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন।

অন্যদিকে ওই নারী অভিযোগ করেন, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিতেন। বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মান্নান তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।

জানা গেছে, এর আগেও ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তিনি যুবদলের আঙ্গুর-কল্লোল গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, যুবদল নেতাকে এক নারীর শোবার ঘর থেকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটকের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

হিন্দু নারীর ঘর থেকে উলঙ্গ অবস্থায় যুবদল নেতা আটক

আপডেট সময় ০১:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক হিন্দু নারীর ঘর থেকে উলঙ্গ অবস্থায় আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা হরিনগর গ্রামের এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে ভেতর থেকে আটকানো একটি কক্ষের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটক করা হয়। তখন তার শরীরে কোন জামা-কাপড় ছিল না। এরপর তাকে ঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর এবং যুবদল নেতা হাফিজ কল্লোল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, আবু হামজাসহ কয়েকজন জানান, আব্দুল মান্নান ও ওই নারী একই এনজিওতে কাজ করার সুবাদে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন।

অন্যদিকে ওই নারী অভিযোগ করেন, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিতেন। বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মান্নান তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।

জানা গেছে, এর আগেও ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তিনি যুবদলের আঙ্গুর-কল্লোল গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, যুবদল নেতাকে এক নারীর শোবার ঘর থেকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটকের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।