ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফজলুর রহমানের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটি এই বক্তব্যকে ‘অপ্রীতিকর, অসংসদীয় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে সংগঠনটির আরও ৭০ জন সদস্য সই করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সংসদে যে আক্রমণাত্মক ও অপ্রীতিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ তার তীব্র নিন্দা জানাই।”

মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে তারা বলেন, “আমরা জেনারেল জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ জাসদ, কেউ জাতীয় পার্টি বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেও যোগদান করেন।”

ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাস ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, “ফজলুর রহমান নিজেও অতীত আওয়ামী নীতি বিসর্জন দিয়ে অনেক দল বদলের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার জনাব আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে, এডভোকেট ফজলুর রহমান ট্রেনিং গ্রহণের পর কোনো অস্ত্রই হাতে নেননি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোনো কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন না।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না—ফজলুর রহমানের এহেন বক্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন, যা নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে দেশ রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়।”

জাতীয় সংসদের পবিত্রতা ও দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, “সংসদ আইন প্রণয়ন ও উন্নয়নের সিদ্ধান্তের জায়গা, ব্যক্তিগত বা দলীয় আক্রমণের জায়গা নয়। আমরা বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই সনদের নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কার করে দেশ গড়ার আহ্বান জানাই। অন্যথায় দেশ পুনরায় ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না।”

বিবৃতিতে সই করা মুক্তিযোদ্ধারা হলেন— ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, মো. তাজিরুল ইসলাম, মো. ফজলুল হক, মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. মতিউর রহমান, মো. শামসুদ্দিন মিয়া, মো. বোরহান উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামাল উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ এবং দৌলত আহমেদসহ মোট ৭২ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফজলুর রহমানের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটি এই বক্তব্যকে ‘অপ্রীতিকর, অসংসদীয় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে সংগঠনটির আরও ৭০ জন সদস্য সই করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সংসদে যে আক্রমণাত্মক ও অপ্রীতিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ তার তীব্র নিন্দা জানাই।”

মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে তারা বলেন, “আমরা জেনারেল জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ জাসদ, কেউ জাতীয় পার্টি বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেও যোগদান করেন।”

ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাস ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, “ফজলুর রহমান নিজেও অতীত আওয়ামী নীতি বিসর্জন দিয়ে অনেক দল বদলের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার জনাব আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে, এডভোকেট ফজলুর রহমান ট্রেনিং গ্রহণের পর কোনো অস্ত্রই হাতে নেননি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোনো কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন না।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না—ফজলুর রহমানের এহেন বক্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন, যা নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে দেশ রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়।”

জাতীয় সংসদের পবিত্রতা ও দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, “সংসদ আইন প্রণয়ন ও উন্নয়নের সিদ্ধান্তের জায়গা, ব্যক্তিগত বা দলীয় আক্রমণের জায়গা নয়। আমরা বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই সনদের নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কার করে দেশ গড়ার আহ্বান জানাই। অন্যথায় দেশ পুনরায় ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না।”

বিবৃতিতে সই করা মুক্তিযোদ্ধারা হলেন— ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, মো. তাজিরুল ইসলাম, মো. ফজলুল হক, মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. মতিউর রহমান, মো. শামসুদ্দিন মিয়া, মো. বোরহান উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামাল উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ এবং দৌলত আহমেদসহ মোট ৭২ জন।