শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুর অনাকাঙ্ক্ষিত: সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল
- আপডেট সময় ০৯:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম সানাউল্লাহ ও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও গুপ্ত সংগঠনের শিক্ষকদের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন সদ্য বহিষ্কৃত কলেজ ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে গতকাল নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদল এবং শিক্ষক পরিষদের নেতা ও কলেজ অধ্যক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা জড়িয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মুর্শিদুর রহমান রায়হান বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা সক্রিয় হলে কলেজের অধ্যক্ষ ও কিছু গুপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য তৈরি হয়। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলের আহ্বানে তারা কলেজে যান।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষক পরিষদে আলোচনার পর তাদের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে যেতে বলা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি উপস্থাপন করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেককে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এসময় তারা প্রতিবাদ জানালে উপস্থিত গুপ্ত শিক্ষকরা তাদের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে এবং তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চান। পরে তারা গুপ্ত শিক্ষকদের থামাতে গিয়েও ব্যর্থ হন। এতে শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কিতে কক্ষের কয়েকটি ফুলের টব ভেঙে যায়, যা তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার পর চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম সানাউল্লাহকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর দাবি করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় এবং তার অপসারণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ২৯ এপ্রিলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
এসময় অন্য বক্তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন তারা।
এর আগে গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ওপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ কয়েকজন এতে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
























