ঋণ করে চাষ করছিলাম, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না
- আপডেট সময় ০৭:৩৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / ১৩ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে টানা কয়েকদিনের ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ করে ফলানো পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম আর আশা। এতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে অনেক জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও আবার ঝড়ে ধানের শীষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ধান লাগাইছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হইয়া গেল। এখন কিভাবে সংসার চলবে বুঝতেছি না।’
মজিবর রহমান নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘টানা বৃষ্টি আর ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল,সেগুলো এখন পানির নিচে। অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে চাষ করছিলাম, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।’
স্থানীয়রা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। প্রণোদনা, বীজ ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
টানা ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়া কুড়িগ্রামের কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু জমির ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।




















