ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ’লীগ নেতাকে রক্ষায় মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ বিএনপি নেতার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানা হত্যা মামলাটি ‌‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে দাবি করে সেটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক বাচ্চু। তিনি ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের আবেদনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, এডিএম মিন্টু বিশ্বাস ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আশরাফ আলী সুপারিশ করে গত ২৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রত্যাহার সম্পর্কিত প্রতিবেদন’ পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নিহত মাসুদ রানার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ দেখিয়ে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মাসুদ রানার মা হালিমা বেগমের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নিহতের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে মাসুদ রানার স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজী ও তার ছোট মেয়ে মাসুদা মেহেরামা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানাকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে কুপিয়ে হত্যা করেন ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক, তার ভাই মঞ্জু মিয়া, ইমদাদুলের দুই ছেলে রিজু মিয়া ও মিজু মিয়াসহ ৩০-৩৫ জন। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৫ এপ্রিল নিহত মাসুদ রানার মা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন উল্লেখিত আসামিসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলাটি বর্তমানে ফরিদপুরের দ্বিতীয় জজ আদালতে বিচারাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ হিসেবে দেখিয়ে প্রত্যাহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মামলাটির ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। মামলার কোথাও বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত লেখা নেই। এটি স্থানীয় বিরোধের জেরে একটি হত্যাকাণ্ড। কিন্তু আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনার তকমা দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয়।’

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ইমদাদুল হক সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—কোনো হত্যা এবং নারী নির্যাতন মামলা রাজনৈতিক বিবেচনার আওতায় আসবে না। সেখানে আমার এ জাতীয় কোনো আবেদনের প্রশ্নই ওঠে না। আমি জানি না কেন আবেদনকারী হিসেবে আমার নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন তারা বলতে পারবেন আমি আবেদকারী হিসেবে কোনো সই করেছি, নাকি মৌখিকভাবেও তাদের জানিয়েছি। এ কাগজ তারা দেখাতে পারবেন না। কেননা আমি এজাতীয় কোনো কাজ করিনি।’

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘যদিও এসব ক্ষেত্রে আবেদনকারী হয় ভুক্তভোগী, কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভুল করে আবেদনকারীর ঘরে সই করে ফেলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা যাবে না—এজাতীয় কোনো নীতিমালা নেই। তাছাড়া তিন দফা যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটি এ সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে। যদি এমন হয় এ সুপারিশ যথাযথ হয়নি, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আমাদের কাছে আবেদন করতে পারে কিংবা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও আবেদন করতে পারে। এটি এখনো কার্যকর হয়নি।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আ’লীগ নেতাকে রক্ষায় মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ বিএনপি নেতার

আপডেট সময় ০৮:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানা হত্যা মামলাটি ‌‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে দাবি করে সেটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক বাচ্চু। তিনি ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের আবেদনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, এডিএম মিন্টু বিশ্বাস ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আশরাফ আলী সুপারিশ করে গত ২৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রত্যাহার সম্পর্কিত প্রতিবেদন’ পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নিহত মাসুদ রানার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ দেখিয়ে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মাসুদ রানার মা হালিমা বেগমের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নিহতের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে মাসুদ রানার স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজী ও তার ছোট মেয়ে মাসুদা মেহেরামা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানাকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে কুপিয়ে হত্যা করেন ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক, তার ভাই মঞ্জু মিয়া, ইমদাদুলের দুই ছেলে রিজু মিয়া ও মিজু মিয়াসহ ৩০-৩৫ জন। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৫ এপ্রিল নিহত মাসুদ রানার মা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন উল্লেখিত আসামিসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলাটি বর্তমানে ফরিদপুরের দ্বিতীয় জজ আদালতে বিচারাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ হিসেবে দেখিয়ে প্রত্যাহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মামলাটির ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। মামলার কোথাও বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত লেখা নেই। এটি স্থানীয় বিরোধের জেরে একটি হত্যাকাণ্ড। কিন্তু আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনার তকমা দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয়।’

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ইমদাদুল হক সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—কোনো হত্যা এবং নারী নির্যাতন মামলা রাজনৈতিক বিবেচনার আওতায় আসবে না। সেখানে আমার এ জাতীয় কোনো আবেদনের প্রশ্নই ওঠে না। আমি জানি না কেন আবেদনকারী হিসেবে আমার নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন তারা বলতে পারবেন আমি আবেদকারী হিসেবে কোনো সই করেছি, নাকি মৌখিকভাবেও তাদের জানিয়েছি। এ কাগজ তারা দেখাতে পারবেন না। কেননা আমি এজাতীয় কোনো কাজ করিনি।’

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘যদিও এসব ক্ষেত্রে আবেদনকারী হয় ভুক্তভোগী, কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভুল করে আবেদনকারীর ঘরে সই করে ফেলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা যাবে না—এজাতীয় কোনো নীতিমালা নেই। তাছাড়া তিন দফা যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটি এ সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে। যদি এমন হয় এ সুপারিশ যথাযথ হয়নি, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আমাদের কাছে আবেদন করতে পারে কিংবা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও আবেদন করতে পারে। এটি এখনো কার্যকর হয়নি।’