ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল

ইমাম নয়, কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন আপন বড় ভাই

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর পরশুরামের আলোচিত সেই ধর্ষণ মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ নয়, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন তার আপন বড় ভাই মোরশেদ।

জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে এবং আপন বোনকে নির্যাতনের দায়ে ভাই মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে কিশোরীর পরিবার। সেই মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি ৩২ দিন কারাভোগ করেন। শুধু জেল খাটা নয়, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও হারান।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সহায়তা নেয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী স্বীকার করেন যে, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এবং মূল ঘটনা আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ শিক্ষক মোজাফফরকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।

পুলিশ বলছে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএর ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া যায়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করে যে মোরশেদই শিশুটির জৈবিক পিতা। এরপর পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না। মিথ্যা অভিযোগে আমি কেবল আমার সম্মান আর চাকরি হারাইনি, মামলার খরচ মেটাতে আমাকে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি একটি সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ রিপোর্ট আসার পর পুরো রহস্যের জট খুলে গেছে এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল

ইমাম নয়, কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন আপন বড় ভাই

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ফেনীর পরশুরামের আলোচিত সেই ধর্ষণ মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ নয়, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন তার আপন বড় ভাই মোরশেদ।

জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে এবং আপন বোনকে নির্যাতনের দায়ে ভাই মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে কিশোরীর পরিবার। সেই মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি ৩২ দিন কারাভোগ করেন। শুধু জেল খাটা নয়, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও হারান।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সহায়তা নেয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী স্বীকার করেন যে, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এবং মূল ঘটনা আড়াল করতে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ শিক্ষক মোজাফফরকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।

পুলিশ বলছে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএর ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া যায়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করে যে মোরশেদই শিশুটির জৈবিক পিতা। এরপর পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না। মিথ্যা অভিযোগে আমি কেবল আমার সম্মান আর চাকরি হারাইনি, মামলার খরচ মেটাতে আমাকে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি একটি সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ রিপোর্ট আসার পর পুরো রহস্যের জট খুলে গেছে এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।