ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল পদ্মায়

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৫৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ আটদিন পর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. শওকত আলী (৩০) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর জহুরপুর টেক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে গরু নিয়ে আসা। ওই দলের সঙ্গেই ছিলেন শওকত আলী। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা। পরে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার জানায়, জেলেরা মরদেহ দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেয়। পরে তারা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে। তবে সে গরু আনতে গিয়েছিল নাকি মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছে, সেটি তারা নিশ্চিত হতে পারেনি।

৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে শওকত গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় ও জেলেদের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জীবন চন্দ্র রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিএসএফের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হতে পারে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হাতে, পায়ে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল পদ্মায়

আপডেট সময় ০৮:৫৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ আটদিন পর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. শওকত আলী (৩০) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর জহুরপুর টেক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে গরু নিয়ে আসা। ওই দলের সঙ্গেই ছিলেন শওকত আলী। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা। পরে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার জানায়, জেলেরা মরদেহ দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেয়। পরে তারা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে। তবে সে গরু আনতে গিয়েছিল নাকি মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছে, সেটি তারা নিশ্চিত হতে পারেনি।

৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে শওকত গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় ও জেলেদের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জীবন চন্দ্র রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিএসএফের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হতে পারে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হাতে, পায়ে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।