ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুকে দাদা-দাদির জিম্মায় দিয়ে মাকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজের সন্তানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সুমি আক্তার নামে এক মাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আড়াই বছরের শিশুটির নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া এ আদেশ দেন।

শুনানির সময় আদালতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করা হলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত মাকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে বারবার আঘাতের চিহ্ন দেখে লন্ডন প্রবাসী বাবা ঘরে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরে সেই ফুটেজে নির্যাতনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর শিশুটির দাদা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার পর সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

শিশুটির দাদির অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে শিশুটির ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে এবং তারা আশঙ্কা করছিলেন শিশুটির জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

আদালতে শুনানির জন্য মা ও শিশুকে হাজির করা হলে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ পাঠানো হয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর বিচারক মাকে মানসিক চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, শিশুটির ওজন কম হওয়ায় শাসন করতে গিয়ে কিছুটা কঠোরতা দেখানো হয়েছিল। তবে আদালতে দেখা যায়, শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়ের কাছ থেকে দাদির কোলে চলে যায়।

পরে আদালত মাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং শিশুটিকে সাময়িকভাবে দাদা-দাদির জিম্মায় দেন। একই সঙ্গে মা সন্তান ছাড়া থাকতে পারবেন না বলে আদালতকে জানান এবং অতীতের আচরণের জন্য ক্ষমা চান।

আগামী বুধবার (২০ মে) মামলার পরবর্তী শুনানিতে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন দাবি করেন, অভিযুক্ত নারীর একাধিক বিয়ে রয়েছে এবং প্রতিটি সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি সন্তানদের বাবার কাছে রেখে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুকে দাদা-দাদির জিম্মায় দিয়ে মাকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

আপডেট সময় ০৮:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নিজের সন্তানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সুমি আক্তার নামে এক মাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আড়াই বছরের শিশুটির নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া এ আদেশ দেন।

শুনানির সময় আদালতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করা হলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত মাকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে বারবার আঘাতের চিহ্ন দেখে লন্ডন প্রবাসী বাবা ঘরে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরে সেই ফুটেজে নির্যাতনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর শিশুটির দাদা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার পর সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

শিশুটির দাদির অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে শিশুটির ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে এবং তারা আশঙ্কা করছিলেন শিশুটির জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

আদালতে শুনানির জন্য মা ও শিশুকে হাজির করা হলে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ পাঠানো হয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর বিচারক মাকে মানসিক চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, শিশুটির ওজন কম হওয়ায় শাসন করতে গিয়ে কিছুটা কঠোরতা দেখানো হয়েছিল। তবে আদালতে দেখা যায়, শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়ের কাছ থেকে দাদির কোলে চলে যায়।

পরে আদালত মাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং শিশুটিকে সাময়িকভাবে দাদা-দাদির জিম্মায় দেন। একই সঙ্গে মা সন্তান ছাড়া থাকতে পারবেন না বলে আদালতকে জানান এবং অতীতের আচরণের জন্য ক্ষমা চান।

আগামী বুধবার (২০ মে) মামলার পরবর্তী শুনানিতে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন দাবি করেন, অভিযুক্ত নারীর একাধিক বিয়ে রয়েছে এবং প্রতিটি সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি সন্তানদের বাবার কাছে রেখে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।