ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তায় ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে নেমে আসলেও ভাটিতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উত্তরের ৫ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার বলে। তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৪০টি গেট খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবা গেটগুলো খুলে দেয়। ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি বলেছেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘন্টায় এই ৫ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। একাধিক পানিবন্দী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ দিন থেকে পানিবন্দী থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

এ দিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ,রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা,কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া বাসস’কে জানান, তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি পাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক নজরুল হক বলেন, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক বুলু মিয়া জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, গবাদি পশুসহ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে রয়েছি।

চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুল বলেন, গত দুই দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে আছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খবর রাখেনি।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি কখনো বিপদসীমার ওপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে পানি আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তায় ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী

আপডেট সময় ০২:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে নেমে আসলেও ভাটিতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উত্তরের ৫ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার বলে। তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৪০টি গেট খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবা গেটগুলো খুলে দেয়। ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি বলেছেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘন্টায় এই ৫ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। একাধিক পানিবন্দী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ দিন থেকে পানিবন্দী থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

এ দিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ,রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা,কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া বাসস’কে জানান, তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি পাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক নজরুল হক বলেন, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক বুলু মিয়া জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, গবাদি পশুসহ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে রয়েছি।

চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুল বলেন, গত দুই দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে আছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খবর রাখেনি।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি কখনো বিপদসীমার ওপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে পানি আরও বাড়তে পারে।