ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবি বাম শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে হামলার প্রতিবাদে প্রক্টর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একই রাতে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ছাত্র ইউনিয়ন ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থী টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় রিকশায় ওঠার সময় কয়েক যুবক তাদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলেও উত্ত্যক্ত করা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, রিকশায় ওঠার আগে থেকেই কয়েকজন যুবক তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে রিকশায় ওঠার পর তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ জানালে ওই যুবকদের একজন বলেন, ‘সুন্দর জিনিস দেখলে কি দেখব না?’

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপর কয়েকজন যুবক তাদের রিকশা ঘিরে দাঁড়ান। পরিস্থিতি দেখে তারা আশপাশে থাকা পরিচিতদের ফোন করে সাহায্য চান। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে সাত থেকে আটজন যুবকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ওই যুবকদের হাতাহাতি হয় বলে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হলে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো লোক জড়ো হন। এরপর নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকিম আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির নেতারা জানান, আহত শিমুল কুম্ভকারকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের কয়েকজনও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থীর দাবি, ঘটনার সময় উত্ত্যক্তকারী কয়েকজন নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানান। তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের ফোন করে ডাকার কথাও বলেন বলে অভিযোগ তার। পরে ওই যুবকদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে এসে এ হামলা চালিয়েছেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, নারী কমরেডদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের দিকে যায়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিভিন্ন ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগতদের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

ঘটনার পর ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি নিজে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে আমি তো রিকগনাইজ করতে পারলাম না। আমি বলব যে এটা এই সংগঠন বা ওই সংগঠন, বা বহিরাগত—এভাবে বলার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ঘটনার কথা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তা যাচাইয়ের জন্য ফুটেজ দেখা হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তা অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আইনগত যে প্রক্রিয়া আছে, আগামীকাল সেটা সম্পন্ন করা হবে। এতে কোনো শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।’

তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে যা কিছু যাচাই করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা করবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন বলেন, বাম শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ এনেছে। আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। হামলাকারীরা ছাত্রদলের ছিল কি না, তাও আমরা নিশ্চিত নই। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবি বাম শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে হামলার প্রতিবাদে প্রক্টর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একই রাতে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ছাত্র ইউনিয়ন ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থী টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় রিকশায় ওঠার সময় কয়েক যুবক তাদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলেও উত্ত্যক্ত করা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, রিকশায় ওঠার আগে থেকেই কয়েকজন যুবক তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে রিকশায় ওঠার পর তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ জানালে ওই যুবকদের একজন বলেন, ‘সুন্দর জিনিস দেখলে কি দেখব না?’

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপর কয়েকজন যুবক তাদের রিকশা ঘিরে দাঁড়ান। পরিস্থিতি দেখে তারা আশপাশে থাকা পরিচিতদের ফোন করে সাহায্য চান। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে সাত থেকে আটজন যুবকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ওই যুবকদের হাতাহাতি হয় বলে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হলে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো লোক জড়ো হন। এরপর নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকিম আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির নেতারা জানান, আহত শিমুল কুম্ভকারকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের কয়েকজনও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থীর দাবি, ঘটনার সময় উত্ত্যক্তকারী কয়েকজন নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানান। তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের ফোন করে ডাকার কথাও বলেন বলে অভিযোগ তার। পরে ওই যুবকদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে এসে এ হামলা চালিয়েছেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, নারী কমরেডদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের দিকে যায়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিভিন্ন ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগতদের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

ঘটনার পর ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি নিজে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে আমি তো রিকগনাইজ করতে পারলাম না। আমি বলব যে এটা এই সংগঠন বা ওই সংগঠন, বা বহিরাগত—এভাবে বলার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ঘটনার কথা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তা যাচাইয়ের জন্য ফুটেজ দেখা হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তা অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আইনগত যে প্রক্রিয়া আছে, আগামীকাল সেটা সম্পন্ন করা হবে। এতে কোনো শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।’

তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে যা কিছু যাচাই করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা করবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন বলেন, বাম শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ এনেছে। আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। হামলাকারীরা ছাত্রদলের ছিল কি না, তাও আমরা নিশ্চিত নই। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।