ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় চিহ্নিতদের বেশিরভাগই অনিয়মিত শিক্ষার্থী, কয়েকজন ছিলেন বহিষ্কৃতও

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে কেউ কেউ সংগঠন থেকে বহিষ্কার বা পদ থেকে অব্যাহতির মুখেও পড়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে হামলায় জড়িত নেতারা বেশিরভাগই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়। হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন।

হামলায় চিহ্নিতদের মধ্যে রয়েছেন, আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।তাঁদের মধ্যে শাহরিয়ার আলম অথি ও সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ছাড়া অন্যরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া হামলায় অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তীকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি এর আগে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।  বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতি করছেন। প্রথম বর্ষে তিনি ড্রপআউট হন বলে জানা গেছে।

আগেও পদ হারিয়েছিলেন হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। এর আগেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। তবে আহসান হাবীব তখন দাবি করেছিলেন, ফোনালাপটি সম্পাদনা করা হয়েছিল।

এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের জুনে রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে মারধর করে টাকা নেওয়া হয় এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ওই অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও ছিল।

হামলায় চিহ্নিত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলামও এর আগে বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন। চলতি বছরের আগস্টে সাত পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিজের মালিকানা দাবি করে অন্যের ফুডকার্ট দখলে নেওয়া এবং বহিরাগতদের নিয়ে রাবির এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে হামলায় চিহ্নিতদের কেউ অছাত্র নন বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

তিনি বলেন, “না, অছাত্র কেউ নেই। গতকালের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। কোনো অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কেন এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন,“আগের ঘটনাগুলো পরে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে এবার আমাদের আরও সতর্কভাবে তদন্ত করতে হচ্ছে। আমরা সবার বক্তব্য নিচ্ছি। যারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের বক্তব্যও নিয়েছি। তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে যদি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় চিহ্নিতদের বেশিরভাগই অনিয়মিত শিক্ষার্থী, কয়েকজন ছিলেন বহিষ্কৃতও

আপডেট সময় ১২:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে কেউ কেউ সংগঠন থেকে বহিষ্কার বা পদ থেকে অব্যাহতির মুখেও পড়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে হামলায় জড়িত নেতারা বেশিরভাগই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়। হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

এতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন।

হামলায় চিহ্নিতদের মধ্যে রয়েছেন, আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।তাঁদের মধ্যে শাহরিয়ার আলম অথি ও সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ছাড়া অন্যরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া হামলায় অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তীকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি এর আগে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।  বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতি করছেন। প্রথম বর্ষে তিনি ড্রপআউট হন বলে জানা গেছে।

আগেও পদ হারিয়েছিলেন হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। এর আগেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। তবে আহসান হাবীব তখন দাবি করেছিলেন, ফোনালাপটি সম্পাদনা করা হয়েছিল।

এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের জুনে রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে মারধর করে টাকা নেওয়া হয় এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ওই অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও ছিল।

হামলায় চিহ্নিত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলামও এর আগে বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন। চলতি বছরের আগস্টে সাত পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিজের মালিকানা দাবি করে অন্যের ফুডকার্ট দখলে নেওয়া এবং বহিরাগতদের নিয়ে রাবির এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে হামলায় চিহ্নিতদের কেউ অছাত্র নন বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

তিনি বলেন, “না, অছাত্র কেউ নেই। গতকালের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। কোনো অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কেন এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন,“আগের ঘটনাগুলো পরে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে এবার আমাদের আরও সতর্কভাবে তদন্ত করতে হচ্ছে। আমরা সবার বক্তব্য নিচ্ছি। যারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের বক্তব্যও নিয়েছি। তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে যদি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”