ছাত্রদল নেতার কফিশপে বিএনপি নেতার হামলা-ভাঙচুর
- আপডেট সময় ০৭:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে উপজেলা বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার মালিকানাধীন কফিশপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়াকে মারধর করে অচেতন করে ফেলা এবং নগদ তিন লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা লুটসহ দুই লাখ ৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের ‘বাগান বিলাস’ কফিশপে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম (৫২), তার ভাই মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), মুখলেস (৩৫), মাসুদ মিয়া, তার ছেলে নাঈম মিয়া (২২) এবং সোহেল মিয়া (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা উপজেলার বাহাম গ্রামের বাসিন্দা।
কফিশপটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নোমান মিয়া। এটি পরিচালনা করেন তার ভাগনে একই উপজেলার নাগডরা গ্রামের শাকিল মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে পার্শ্ববর্তী পেরীরচর গ্রামের বাসিন্দা অন্তর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে কফিশপটিতে যান। সেখানে অন্তরের স্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন নাঈম মিয়া। এ নিয়ে অন্তর মিয়ার সঙ্গে নাঈমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে অন্তর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু সময় পর নাঈম তার বাবা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম, চাচা মাসুদ, মুখলেসসহ আরও ২০-২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে কফিশপে যান। সেখানে অন্তর মিয়াকে না পেয়ে তারা শাকিল মিয়ার ওপর হামলা চালান। তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
এসময় হামলাকারীরা কফিশপের লাইট, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারে রাখা বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সংরক্ষিত তিন লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ওই দিনের বিক্রির ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি কফিশপের বিভিন্ন মালামাল ও ডেকোরেশন সামগ্রী লুট এবং ভাঙচুর করে দুই লাখ ৪ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম এবং তার ভাই মুখলেস মিয়ার ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















