ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ‘চাঁদাবাজি ও সিট বানিজ্য’ সংক্রান্ত পোস্টের জেরে শিক্ষার্থীকে মারধর ছাত্রদল নেতা পারভেজের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:২১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসে অবৈধ শিক্ষার্থী কর্তৃক সিট দখলের প্রতিবাদ করায় ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধরের একদিন না পেরোতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতাকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৮ জুন) রাত পৌনে ৯ টার দিকে ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মঈনুল ইসলাম কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। তাছাড়াও তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হলেন- ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশাররফ। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমানের অনুসারী বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ছাত্রাবাসে অবৈধ শিক্ষার্থী কর্তৃক সিট দখলের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফের নেতৃত্বে ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠে। পরে ক্যাম্পাসে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ রিফাত নামে এক শিক্ষার্থী চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ পারভেজের বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অপরাধকর্মের ব্যাপারে ‘ঢাকা কলেজ হলপাড়া’ নামক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে সমালোচনা করেন। সেই পোস্টটি কেন এপ্রুভ করা হয়েছে এবং তা কেন ডিলিট করা হয়নি, এ প্রশ্ন তুলে সেই ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন মঈনুল ইসলামকে হেনস্থা ও মারধর করেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ।

মারধরের শিকার মঈনুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনায় বলেন, আমি রাতের বেলা খেতে গিয়েছিলাম। এ সময় পারভেজ ভাইসহ দুইজন হুট করে আমাকে দেখে বলছে মইনুল তুমি হল গ্রুপের এডমিন। এই পোস্টটা কে করছে? রিফাত নামে একটা ছেলে একটা পোস্ট করছে তাকে আমি চিনি না।

তিনি বলেন, এরপর আমাকে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ বলে, দলের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই পোস্টটা এপ্রুভ করছে কেন? পোস্টটা ডিলিট করো। তখন বলেছি এটা তো আমার রেসপন্সিবিলিটির মধ্যে পড়ে না। ওই পোস্টটা আমি পড়িও নাই। এটা তো আমি ডিলিট করতে পারি না। আমি যেটা করতে পারি, যে পোস্ট করছে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি কেন পোস্ট করেছে। এরপর ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলে তুই এক্ষুনি পোস্ট ডিলিট করবি নাইলে তোর খবর আছে। বিশ্রী ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে।

তিনি আরও বলেন, তখন আমি বলি, এটার কোনো রাইটস নাই। পোস্ট ডিলিট করতে পারবো না। এরপরে পারভেজ ভাই আমার গলা ধাক্কা দেয়, ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে হলের অন্য সাইডে নিয়ে যায়। ওখানে প্রায় ৬০/৭০ জনের মত জড় হয়ে যায়। এর আগে তাকে নিয়ে কি হয়েছে সেগুলো আমি জানি না। আমি রুমে ছিলাম কিন্তু হলে অবৈধ সিট দখল না কি হয়েছে সেটা জানতামই না।

মঈনুল আরও বলেন, ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলেছে আমি হলের গ্রুপে কেন এডমিন। হলে কেউ গ্রুপ চালাতে পারবে না, কোন গ্রুপ চলবে না। তোর বন্ধু সজীব বেশি বাড়া বেড়ে গেছে। এসময় আমাকে হেনস্থার করার সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করে কয়েকজন। আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। পরে আমাকে ওখান থেকে হলে নিয়ে আসছে।

যে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ:
‘ঢাকা কলেজ হলপাড়া’ নামক ফেসবুক গ্রুপের ওই পোস্টে মোহাম্মদ রিফাত নামের একজন লেখেন, ‘ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি বলেন বা হলে সিট দখল সবখানে জড়িত ছাত্রদলের পারভেজ ও দ্বীন মোহাম্মদসহ মিল্লাদ গ্যাং এর সদস্যরা। হলের সিট দখলসহ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি ও ঢাকা কলেজের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানো এই সকল কিছুর সাথে জড়িত মহারথীরা হলো: সাগর, মাসুদুর রহমান জীবন, মিল্টর, সীমান্ত, ওহিদ ফরাজি, সিহাব, রিফাত হোসাইন, ফিরোজসহ আরো অনেকে। ঢাকা কলেজে সকল অপকর্মের পিছনে ইন্ধনদাতা হলো মিল্লাদ ও তার গ্যাং।’

পোস্টটির কমেন্টে ছাত্রদল কর্মীদের হুমকি:
বৈষম্যবিরোধী সাবেক নেতা মঈনুলকে মারধরের কিছুক্ষণ পর ওই পোস্টটি ডিলিট করা হয়। এর আগে ওই পোস্টের কমেন্টে ছাত্রদল কর্মী ওহীদ ফরাজি ও নাবিল মাহবুব শান্ত প্রকাশ্যে পোস্টকারীকে পেটানোর হুমকি দেন। এছাড়াও, গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেলের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

ছাত্রদল কর্মী ওহীদ ফারাজি হুমকি দিয়ে কমেন্টে লেখেন, ‘কমেন্টে বলে রাখলাম আমার কোন প্রমাণ যদি তুই না দিতে পারোস তোরে প্রকাশ্যে পেটাবো। আর তুই যে সিনিয়রদের মানহানি করতেছস এর ফল তুই ভোগ করবি।’

নাবিল মাহাবুব শান্ত নামে এক ছাত্রদল কর্মী লেখেন, ‘আগামীকালই ওরে ধরেন।। প্রমাণ চান আপনার দোকানের। যদি না দিতে পারে তাহলে ওরে কুত্তার মতো পিটিয়ে মানহানির মামলা দিয়ে পুলিশে দেন।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ:
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজ দক্ষিণায়ন হলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও নীতিমালা লঙ্ঘন করে হলে অবস্থান ও আধিপত্য বিস্তার করছেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ। এছাড়াও মাদারীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের অবৈধভাবে হলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ দ্য ঢাকা ডায়েরিকে প্রশ্ন করে বলেন, মারধর করেছি যে, তার কোনো চিহ্ন আছে মঈনুলের গায়ে?

ঘটনার বর্ণনা করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এর আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল, সেটা নিয়ে ওরা বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছিলো। আমি মঈনুলকে বললাম যে, তোমরা যে পোস্ট দিচ্ছো, এতে সমস্যা হবে। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বাড়বে। সুন্দরভাবেই বলেছি যে, পোস্টটি ডিলিট করে দাও। ক্যাম্পাস এখন শান্তিতে আছে, তুমি ছাত্রদলকে বারবার খোঁচা দিবা, তখন ছাত্রদল তো সমস্যা করবে। এটা বলার পর তর্কাতর্কি শুরু করে সে। পরে কথা কাটাকাটি হয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুকে ‘চাঁদাবাজি ও সিট বানিজ্য’ সংক্রান্ত পোস্টের জেরে শিক্ষার্থীকে মারধর ছাত্রদল নেতা পারভেজের

আপডেট সময় ০৩:২১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসে অবৈধ শিক্ষার্থী কর্তৃক সিট দখলের প্রতিবাদ করায় ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধরের একদিন না পেরোতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতাকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৮ জুন) রাত পৌনে ৯ টার দিকে ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মঈনুল ইসলাম কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। তাছাড়াও তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হলেন- ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশাররফ। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমানের অনুসারী বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ছাত্রাবাসে অবৈধ শিক্ষার্থী কর্তৃক সিট দখলের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফের নেতৃত্বে ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠে। পরে ক্যাম্পাসে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ রিফাত নামে এক শিক্ষার্থী চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ পারভেজের বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অপরাধকর্মের ব্যাপারে ‘ঢাকা কলেজ হলপাড়া’ নামক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে সমালোচনা করেন। সেই পোস্টটি কেন এপ্রুভ করা হয়েছে এবং তা কেন ডিলিট করা হয়নি, এ প্রশ্ন তুলে সেই ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন মঈনুল ইসলামকে হেনস্থা ও মারধর করেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ।

মারধরের শিকার মঈনুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনায় বলেন, আমি রাতের বেলা খেতে গিয়েছিলাম। এ সময় পারভেজ ভাইসহ দুইজন হুট করে আমাকে দেখে বলছে মইনুল তুমি হল গ্রুপের এডমিন। এই পোস্টটা কে করছে? রিফাত নামে একটা ছেলে একটা পোস্ট করছে তাকে আমি চিনি না।

তিনি বলেন, এরপর আমাকে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ বলে, দলের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই পোস্টটা এপ্রুভ করছে কেন? পোস্টটা ডিলিট করো। তখন বলেছি এটা তো আমার রেসপন্সিবিলিটির মধ্যে পড়ে না। ওই পোস্টটা আমি পড়িও নাই। এটা তো আমি ডিলিট করতে পারি না। আমি যেটা করতে পারি, যে পোস্ট করছে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি কেন পোস্ট করেছে। এরপর ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলে তুই এক্ষুনি পোস্ট ডিলিট করবি নাইলে তোর খবর আছে। বিশ্রী ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে।

তিনি আরও বলেন, তখন আমি বলি, এটার কোনো রাইটস নাই। পোস্ট ডিলিট করতে পারবো না। এরপরে পারভেজ ভাই আমার গলা ধাক্কা দেয়, ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে হলের অন্য সাইডে নিয়ে যায়। ওখানে প্রায় ৬০/৭০ জনের মত জড় হয়ে যায়। এর আগে তাকে নিয়ে কি হয়েছে সেগুলো আমি জানি না। আমি রুমে ছিলাম কিন্তু হলে অবৈধ সিট দখল না কি হয়েছে সেটা জানতামই না।

মঈনুল আরও বলেন, ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলেছে আমি হলের গ্রুপে কেন এডমিন। হলে কেউ গ্রুপ চালাতে পারবে না, কোন গ্রুপ চলবে না। তোর বন্ধু সজীব বেশি বাড়া বেড়ে গেছে। এসময় আমাকে হেনস্থার করার সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করে কয়েকজন। আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। পরে আমাকে ওখান থেকে হলে নিয়ে আসছে।

যে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ:
‘ঢাকা কলেজ হলপাড়া’ নামক ফেসবুক গ্রুপের ওই পোস্টে মোহাম্মদ রিফাত নামের একজন লেখেন, ‘ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি বলেন বা হলে সিট দখল সবখানে জড়িত ছাত্রদলের পারভেজ ও দ্বীন মোহাম্মদসহ মিল্লাদ গ্যাং এর সদস্যরা। হলের সিট দখলসহ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি ও ঢাকা কলেজের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানো এই সকল কিছুর সাথে জড়িত মহারথীরা হলো: সাগর, মাসুদুর রহমান জীবন, মিল্টর, সীমান্ত, ওহিদ ফরাজি, সিহাব, রিফাত হোসাইন, ফিরোজসহ আরো অনেকে। ঢাকা কলেজে সকল অপকর্মের পিছনে ইন্ধনদাতা হলো মিল্লাদ ও তার গ্যাং।’

পোস্টটির কমেন্টে ছাত্রদল কর্মীদের হুমকি:
বৈষম্যবিরোধী সাবেক নেতা মঈনুলকে মারধরের কিছুক্ষণ পর ওই পোস্টটি ডিলিট করা হয়। এর আগে ওই পোস্টের কমেন্টে ছাত্রদল কর্মী ওহীদ ফরাজি ও নাবিল মাহবুব শান্ত প্রকাশ্যে পোস্টকারীকে পেটানোর হুমকি দেন। এছাড়াও, গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেলের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

ছাত্রদল কর্মী ওহীদ ফারাজি হুমকি দিয়ে কমেন্টে লেখেন, ‘কমেন্টে বলে রাখলাম আমার কোন প্রমাণ যদি তুই না দিতে পারোস তোরে প্রকাশ্যে পেটাবো। আর তুই যে সিনিয়রদের মানহানি করতেছস এর ফল তুই ভোগ করবি।’

নাবিল মাহাবুব শান্ত নামে এক ছাত্রদল কর্মী লেখেন, ‘আগামীকালই ওরে ধরেন।। প্রমাণ চান আপনার দোকানের। যদি না দিতে পারে তাহলে ওরে কুত্তার মতো পিটিয়ে মানহানির মামলা দিয়ে পুলিশে দেন।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ:
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজ দক্ষিণায়ন হলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও নীতিমালা লঙ্ঘন করে হলে অবস্থান ও আধিপত্য বিস্তার করছেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ। এছাড়াও মাদারীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের অবৈধভাবে হলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ দ্য ঢাকা ডায়েরিকে প্রশ্ন করে বলেন, মারধর করেছি যে, তার কোনো চিহ্ন আছে মঈনুলের গায়ে?

ঘটনার বর্ণনা করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এর আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল, সেটা নিয়ে ওরা বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছিলো। আমি মঈনুলকে বললাম যে, তোমরা যে পোস্ট দিচ্ছো, এতে সমস্যা হবে। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বাড়বে। সুন্দরভাবেই বলেছি যে, পোস্টটি ডিলিট করে দাও। ক্যাম্পাস এখন শান্তিতে আছে, তুমি ছাত্রদলকে বারবার খোঁচা দিবা, তখন ছাত্রদল তো সমস্যা করবে। এটা বলার পর তর্কাতর্কি শুরু করে সে। পরে কথা কাটাকাটি হয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না।