বাল্যবিবাহের শিকার ও ঝরে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ‘সুতোর কাব্য’
- আপডেট সময় ০৪:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
“একটি সুঁই, একটি সুতো আর নতুন করে বাঁচার গল্প…”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাল্যবিবাহের শিকার ও ঝরে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যতিক্রমী এক সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল শিক্ষার্থী। তাদের এই উদ্যোগের নাম ‘সুতোর কাব্য’।
উদ্যোক্তারা জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকলেও, যারা ইতোমধ্যেই বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে সংসার জীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ খুবই সীমিত। সেই ভাবনা থেকেই নারীদের হাতের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘সুতোর কাব্য’।
এই উদ্যোগের কো-ফাউন্ডার হিসেবে কাজ করছেন হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী— মো. ফয়সাল আলী, আরফিন জাহান স্বর্ণা, মিসকে জান্নাত, রিমু সোলায়মান এবং রিমন চৌধুরী।
কো-ফাউন্ডাররা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আত্মনির্ভরতা শুধু অর্থ উপার্জনের নাম নয়; বরং নিজের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো নিজের সামর্থ্যে পূরণ করতে পারা এবং হারিয়ে যাওয়া আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার নামই আত্মনির্ভরতা। আমরা হয়তো সবার জীবন একদিনে বদলে দিতে পারব না, কিন্তু অন্তত কিছু নারীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে চাই। তাদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্পের যথাযথ মূল্যায়ন ও টেকসই বাজার সৃষ্টি করতে পারলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম হবেন।”
‘সুতোর কাব্য’ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত সেমিনার ও মাঠপর্যায়ের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
উদ্যোগটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো পরিবেশবান্ধব অঙ্গীকার। বিক্রি হওয়া প্রতিটি পণ্য থেকে ২ টাকা গাছ রোপণ কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি ৩০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে ক্রেতাকে উপহার হিসেবে একটি গাছের চারা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘সুতোর কাব্য’ একদিন বাল্যবিবাহের শিকার অসংখ্য নারীর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে এবং টেকসই সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।























